বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের পাশে লাল রঙের ভবন। লাল রঙের হওয়ায় এটি লালকুঠি নামেই বেশি পরিচিত। মোগল ও ইংরেজ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ ভবন এক সময় সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল। ১৯২৬ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকায় এলে এখানেই তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। অভিজাত ব্যক্তিদের আড্ডাখানা হিসেবেও এটির কদর ছিল। বর্তমানের এই জীর্ণ ভবনটির নির্মাণশৈলী অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ফলে আবারও এটি প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৭২ সালে ঐতিহাসিক এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়। প্রথমে এর নাম ছিল নর্থব্রুক হল। তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুকের ঢাকা সফরকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ভবনটির নাম নর্থব্রুক হল রাখা হয়েছিল। পরে ১৮৮২ সালে ভবনটিতে 'জনসন হল' নামে পাঠাগারও করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করা ও বন্ধ থাকায় স্থাপনাটি এখন বেহাল। এটি ঘুরে দেখা যায়, দেয়ালের লাল রং বিবর্ণ হয়ে গেছে। খসে পড়ছে পলেস্তারা। ভেতরে বড় অডিটোরিয়াম আছে, তবে কাঠের মঞ্চ নড়বড়ে। লালকুঠির সামনেই লঞ্চ টার্মিনাল স্থাপনের কারণে এখান থেকে দেখা যায় না নদী। পাশের রাস্তায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। রয়েছে ময়লার ভাগাড়ও। এই লালকুঠির হাল ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্থাপনাটির নিয়ন্ত্রণকারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

ঢাকা সিটি নেবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্টের (ডিসিএনইউপি) অধীনে চলছে সংস্কার কাজ। কাজের পরিকল্পনার নকশা থেকে জানা যায়, লালকুঠি ভবনে একটি টাউন হল, প্রদর্শনী হল, ব্যাঙ্কুয়েট হল, সেমিনার হল এবং ফটোশুটের স্থান থাকবে। জনসন হল অংশে একটি পাবলিক লাইব্রেরি, ডিজিটাল লাইব্রেরি বা আর্কাইভ, বুক ক্যাফে, স্যুভেনির সেলস বুথ করা হবে। করিডোর অংশকে ছোট প্রদর্শনী স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। লালকুঠির বহিরাংশেও থাকবে নানা আয়োজন। এ ছাড়া একটি কমিউনিটি সেন্টার করা হবে। মূলত ঢাকার ঐতিহাসিক এই নিদর্শনে আবার প্রাণ ফেরানোর জন্য যাবতীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ডিসিএনইউপির প্রকল্প পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিগগির লালকুঠি ভবনটির চারপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। ভবনটিকে সম্পূর্ণরূপে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে এর আশপাশে নাগরিক ও দর্শনার্থীদের জন্য কমিউনিটি সেন্টার, লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে।