একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুরের তিনজন ও সাতক্ষীরার আশাশুনির ২ জনসহ মোট ৫ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে প্রসিকিউশন শাখায় প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান এম সানাউল হক মঙ্গলবার ধানমন্ডি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার তিনজন পলাতক রয়েছেন এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দুইজন মো. আবুল হাসেম ও মুজিবুর রহমান ডোনো গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তদন্তের স্বার্থে বাকি দুই জনের নাম প্রকাশ করেনি তদন্ত সংস্থা।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ফুলপুরের পলাতক তিনজনের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৭জন নিরিহ মানুষকে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, পাশবিক নির্যাতন, ধর্মান্তরিতসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামিরা বর্তমানে বিএনপির সক্রিয় কর্মী। 

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান কবীর ৪টি ভলিউমে ১৯০ পৃষ্টার প্রতিবেদন শিগগিরই প্রসিকিউশন শাখায় দাখিল করবেন।

এছাড়া সাতক্ষীরার আশাশুনির দুইজন আবুল হাসেম ও মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের চারজনকে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, আটকসহ বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার প্রমাণ মিলেছে। 

বুধহাটা গ্রামের আবুল হাশেম ও দক্ষিণ চাপড়া গ্রামের মুজিবর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের সমর্থক ছিলেন। 

আবুল হামেস বর্তমানে আশাশুনি থানার জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক। মুজিবর রহমানও জাতীয় পার্টির সমর্থক। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আ. রাজ্জাক খান ২টি ভলিউমে ৫০ পৃষ্টার প্রতিবেদন প্রসিকিউশন শাখায় দাখিল করবেন।