কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিতে ভোটাররা সমস্যায় পড়তে পারেন বলে শঙ্কা রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের। তিনি বলেছেন, এবারই কুমিল্লায় ইভিএমে প্রথম ভোট হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ভোট দিতে ভোটারদের সমস্যা হতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশন থেকে দুই-একজন এক্সপার্টকে রাখা হোক, কেউ ভোট দিতে সমস্যায় পড়লে তাকে সাহায্য করার জন্য।  

আজ মঙ্গলবার কুমিল্লায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দিতে সমস্যা হয়েছিল। ইভিএম ধীর গতিতে কাজ করায় যথাসময়ে সব ভোট গ্রহণ করা যাচ্ছিল না। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ইভিএম সম্পর্কে মত জানতে চাইলে আরফানুল হক রিফাত এ কথা বলেন। 



তবে নির্বাচনী পরিবেশ চমৎকার থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আরফানুল হক রিফাত বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন হবে। কুমিল্লার মানুষ শতভাগ নিরাপদ থাকবে। আমাদের (আওয়ামী লীগ) দ্বারা কোনো অকারেন্স হবে না। বাইরের কেউ (ঝামেলা) করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তো থাকবেই। 

ভোটার ছাড়া কেউ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে না জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের ভোটার আইডি কার্ড থাকবে কেবল তারাই ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে। 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থান ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী বলেন, মেয়র হতে পারলে শপথ নেওয়ার এক মাসের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনে এ যাবত যত দুর্নীতি হয়েছে তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করব। আগামী দিনে আমি মেয়র হলে আমার বিরুদ্ধেও যেন এটা করা হয়। আমি চাই এটা একটা সিস্টেম হোক। 

এদিকে, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিন কর্তব্যরত অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য গাফিলতি বা অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ। 

তিনি জানান, নির্বাচনে ৩ হাজার ৬০৮ জন পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবেন। তারা কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে কোনো ধরনের ঝামেলা সহ্য করা হবে না।

আগামীকাল বুধবার সকাল ৮টায় কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের ভোট শুরু হবে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৭টি ওয়ার্ডে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে। 

এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে আলোচনায় বেশি আওয়ামী লীগের আরফানুল হক রিফাত ও সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর নাম। মনিরুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লায় প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরপর দুবারের মেয়র তিনি। এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মনিরুল। দলীয় সিদ্ধান্ত না মানায় তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তার মতোই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন। দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, লড়ছেন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে। তিনিও আছেন আলোচনায়। 

রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার নির্বাচনে মোট ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬। আর হিজড়া ভোটার দুজন। মোট ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। এতে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০৬ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন প্রার্থী হয়েছেন।

নির্বাচনে ১০৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৭৫টি তল্লাশীচৌকি, ১০৫টি মোবাইল টিম, ১২ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ৩০টি টিম, ৫২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। পুলিশের ৩ হাজার ৬০৮ জন সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচনে ইভিএমে কোনো ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে ৩৫ জন ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে সেটি মেরামত করবেন। ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের সারিতে একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। প্রতি বুথে (কক্ষে) ১টি করে মোট ৬৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। ভোট কক্ষের ভেতরে কোনো এজেন্ট কোনো ভোটারকে তার পছন্দের প্রতীকে ভোটদানে প্রভাবিত করলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।