দেশে প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনশুমারি কার্যক্রম গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে। প্রথমে ভাসমান মানুষকে গণনায় নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে রাত ১২টায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে সারাদেশের ঘরে ঘরে গণনা কার্যক্রমে যাবেন কর্মীরা। এ কার্যক্রম শেষ হবে আগামী মঙ্গলবার। তিন মাসের মধ্যে দেওয়া হবে জরিপের প্রাথমিক প্রতিবেদন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনও যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

জনশুমারির প্রচার কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরতে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, জনশুমারি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। স্বচ্ছ শুমারির স্বার্থে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের উপায়-উপকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে গণনা হওয়ার কারণে কেউ যেমন বাদ যাবে না, তেমনি কাউকে দুইবার গণনারও সুযোগ নেই। সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই-বাছাই করেই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর অনুমান, প্রতিবেদনে মোট জনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে সাড়ে ১৬ থেকে ১৭ কোটিতে। প্রতি ১০ বছরে গড়ে ২ কোটির মতো জনসংখ্যা বাড়ে। বিবিএসের মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেনসহ সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

গণনায় সবার কাছ থেকে ৩৫টি তথ্য চাওয়া হবে। গৃহকর্তার কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হবে। স্বচ্ছ জনশুমারি ও গৃহগণনার স্বার্থে সারাদেশে একযোগে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৭ জন গণনাকারী ট্যাবের (কম্পিউটার) সাহায্যে সাত দিন ধরে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। যেসব বিদেশি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তাঁদেরও গণনা করা হবে। বিদেশে থাকা প্রবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। কোনো রকম নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় থানা প্রশাসনের কাছে গণনাকারীদের ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে। যে কোনো প্রয়োজনে থানা প্রশাসন সহায়তা দেবে।

৫টি প্রধান উদ্দেশ্যে জনশুমারি ও গৃহগণনা করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- প্রতিটি খানা এবং খানার সদস্যদের গণনা করে মোট জনসংখ্যার হিসাব জানা; দেশের সব বসতঘরের সংখ্যা জানা; সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ; স্থানীয় এবং জাতীয় নির্বাচনের এলাকা নির্ধারণে তথ্য সংগ্রহ এবং জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে যেখানে যে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন তার সহায়তা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের শুমারিতে ৬৩ হাজার ৫৪৮ জন সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন আইটি সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন জোনাল অফিসার, ১৬৩ জন জেলা শুমারি সমন্বয়কারী এবং ১২ জন বিভাগীয় শুমারি সমন্বয়কারীর মাধ্যমে শুমারি শেষ হবে।
জনশুমারি আগে আদমশুমারি নামে পরিচিত ছিল। সর্বশেষ পঞ্চম শুমারি হয়েছিল ২০১১ সালে। ১০ বছর পরপর এ শুমারি হওয়ার কথা থাকলেও মহামারির কারণে গত বছর তা সম্ভব হয়নি। মূল উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিপিপি ) অনুযায়ী, গত বছরের ২ থেকে ৮ জানুয়ারি সারাদেশে জনশুমারি ও গৃহগণনার পরিকল্পনা ছিল। পরে করোনার কারণে তারিখ পিছিয়ে তা ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। এরপর গণনায় ব্যবহূত ট্যাব কেনা সংক্রান্ত জটিলতায় সময় আরও পিছিয়ে যায়।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ প্রকল্পের আওতায় গৃহের সংখ্যা ও ধরন, বাসস্থানের মালিকানা, খাবার পানির প্রধান উৎস, টয়লেটের সুবিধা, বিদ্যুৎ সুবিধা, রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস- এসব তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।