জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় প্রতিনিয়ত বাতাসে মিশছে অতিক্ষুদ্র কণা। এগুলো বায়ুর ঘনত্ব বাড়িয়ে দূষণের অন্যতম উপকরণে পরিণত হচ্ছে। নিঃশ্বাসের মাধ্যমে এই দূষিত বাতাস গ্রহণ করায় পড়তে হচ্ছে ফুসফুস ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। এতে বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু কমছে দুই বছর। এই দূষণে দুনিয়ার সব অঞ্চলকে টপকে গেছে বাংলাদেশ। দেশে মানুষের গড় আয়ু কমছে আশঙ্কাজনক হারে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে উল্টো গড় আয়ু অন্তত পাঁচ বছর বাড়বে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বাতাসে ভেসে বেড়ানো ফাইন পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম২.৫ দূষণ খালি চোখে দেখা যায় না। এর ঘনত্ব ২৪ ঘণ্টার সময়কালে প্রতি ঘনমিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। তবে ইতোমধ্যে এই মানদণ্ড অতিক্রম করেছে বিশ্বের প্রায় সব এলাকা। এর মধ্যে এশিয়া সবার ওপরে। আবার এ অঞ্চলে বায়ুদূষণে শীর্ষস্থান দখলে রাখা বাংলাদেশে পিএম২.৫ দূষণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া পরিমাণের তুলনায় ১৫ গুণ। এক ধাপ নিচেই অবস্থান করছে ভারত, সেখানে পিএম২.৫ এর দূষণ ১০ গুণ। এর পরে আছে নেপাল ও পাকিস্তান। ভারতের অন্যতম দূষিত অঞ্চল উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে মানুষের গড় আয়ু কমছে আট বছর এবং দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লির বাতাসের মান সবচেয়ে খারাপ, সেখানে গড় আয়ু কমছে প্রায় ১০ বছর।

সব অঞ্চলে বাতাসের মানের অবনতি ঘটলেও পিএম২.৫ দূষণ কমিয়ে বিশ্বে রেকর্ড করেছে ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীন। ২০১৩ ও ২০২০ সালের মধ্যে দেশটি ৪০ শতাংশ দূষণ হ্রাস করায় সেখানে গড় আয়ু বেড়েছে দুই বছর। সূত্র : এএফপি।