ঋণের জন্য আবেদনই করেনি- এমন গায়েবি প্রতিষ্ঠানের নামে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ভারতে গ্রেপ্তার পি কে হালদার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে তাঁর এই অভিনব জালিয়াতি বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনেও একই দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ মিলেছে, যে প্রতিবেদন এখন দুদকের হাতে।

এতদিন অস্তিত্বহীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ আবেদনসহ ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে পি কে হালদারের একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা জানা গেছে। তবে এবার আবেদন ছাড়াই অভিনব জালিয়াতি সবাইকে অবাক করেছে।
দুদক সূত্র জানায়, পি কে হালদার ২০০৯ সালে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি ছিলেন। এ সময় বন্ধু আবদুল আলীম চৌধুরীর নামে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে তিনি কোনো ধরনের ঋণ আবেদন ছাড়াই শত শত কোটি টাকা বের করে দেন। এভাবে নিজের ক্ষমতাবলে তিনি প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে অনুমোদন করেছেন। পরে বিভিন্ন অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ভাগ দিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন পি কে হালদার।

ন্যাম করপোরেশনের মালিক আলীম চৌধুরীকে ঋণ আবেদন ছাড়াই রিলায়েন্স থেকে দেওয়া হয় ৫ কোটি টাকা। বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই।

ইরফান আহমেদ খানের কাগুজে প্রতিষ্ঠান জেকে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের আবেদনে জামানত ছাড়াই দেওয়া হয় ১৫ কোটি টাকা। রেকর্ডপত্রে দেখা যায়, এই টাকা মঞ্জুর করা হয় ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল। এই টাকার বিপরীতে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর নামমাত্র আবেদন জমা দেওয়া হয়। অর্থাৎ আবেদনের সাত মাস আগেই টাকা দেওয়া, যা বেআইনি। শুধু তাই নয়, ঋণ হিসাবটি কোনো ধরনের মূলধন ব্যতিরেকে মোট চারবার নবায়ন করা হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরও বেআইনিভাবে জেকে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়।
পি কে হালদার তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবদুল আলীম চৌধুরীর মাধ্যমে কাগুজে ন্যাম করপোরেশন, জেকে ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, ক্লিউস্টোন এক্সেসরিস, ভার্ব মেটাল, আরএ চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের নামে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান জালজালিয়াতির মাধ্যমে পি কে হালদারের ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ যাচাই করছেন। যাচাই শেষে সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

এখন পর্যন্ত পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতে ২২ ও ফাস (এফএএস) ফাইন্যান্সের অর্থ আত্মসাতে ১৩টি মামলা হয়েছে। ওইসব মামলার বিপরীতে ১ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের এমডি মো. রাশেদুল হক, রাসেল শাহরিয়ারসহ ১২ কর্মকর্তা ও ঋণ গ্রাহককে। তাঁদের মধ্যে ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিষয় : পি কে হালদারের নতুন দুর্নীতি

মন্তব্য করুন