রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল থেকে শফিউল্ল্যাহ নামে এক অনাবাসিক শিক্ষাথীকে নামিয়ে দিয়েছে হল প্রাধ্যক্ষ। তার সিটে রাকিবুল নামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে হল গেটে তালা লাগিয়েছেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শামীম ওসমান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শামীম ওসমান শাকা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী। এছাড়া বেড নামিয়ে দেওয়া শফিউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

হল সূত্রে জানা যায়, ৪৩০ নং কক্ষটি দুই সিটের, তবে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে আরও একটি বেড দেওয়া হয়। ফলে তিনটি বেড রয়েছে। ওবে এই কক্ষে চারজন থাকেন। তারা হলেন- রায়হান, মহসিন, রাকিবুল এবং শফিউল্ল্যাহ। এদের মধ্যে শফিউল্ল্যাহর আবাসিকতা নেই। সম্প্রতি রাকিবুলকে ২৪৪ নম্বর কক্ষে আবাসিকতা দেওয়া হয়। তবে ওই কক্ষে সিট ফাঁকা না থাকায় হল প্রশাসন ফের তাকে ৪৩০ নম্বর কক্ষে তুলে দেন সিঙ্গেল সিটে। গত ১৪ জুন ছাত্রলীগ কর্মী শফিউল্ল্যাহ রাকিবুলকে সিঙ্গেল সিট থেকে নামিয়ে দিয়ে নিজেই সিঙ্গেল সিটে উঠেন। বিষয়টি রাকিবুল হল প্রাধ্যক্ষে জানান। হল প্রশাসন শফিউল্ল্যাহকে এ বিষয়ে কথা বলতে ডেকে পাঠায়। তবে সে রুমে না থাকায় তার বেডিং সরিয়ে রাকিবুলকে ফের সিটে তুলে দেন প্রাধ্যক্ষ। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ নেতা শামীম ওসমান হল গেটে তালা লাগিয়ে দেন। 

এ সময় হলের প্রায় পাঁচ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী জিম্মি হয়ে পড়েন। এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা থাকায় ওই শিক্ষার্থী নিজে তালা ভেঙে বের হলে ফের তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রাধ্যক্ষ এসে তালা খুলে তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। এসময় হলের তিনজন আবাসিক শিক্ষক ও একজন সহকারী প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক চলাকালে অভিযুক্ত শামীম ওসমান বলেন, তিনি হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শাকিলের নির্দেশে তালা লাগিয়েছিলেন। তবে শাকিল এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি কাউকে তালা দিতে বলি নি। বরং হল প্রশাসন আমার বেড নিয়ে গিয়েছিল। 

আলোচনায় শামীম ওসমানকে নিজের অপরাধ স্বীকার করে মুচলেকা দিতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং তাৎক্ষণিক আলোচনা কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। প্রাধ্যক্ষ শামীম ওসমানের বিছানাপত্র বের করার নির্দেশ দেন। তবে হল কর্মচারীরা তার ২২০ নং কক্ষে গিয়ে শামীম ওসমানের বেড মনে করে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাকিলের বেড নিয়ে আসে। এতে শাকিল ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করেন। পরে শাকিলের বেড আবার তার রুমে তুলে দেওয়া হয় এবং শামীম ওসমানের বিছানাপত্র বের করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে শামীম ওসমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে এখন কোনো কথা বলতে চাই না। 

এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম বলেন, যে হলে তালা লাগিয়েছে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। এর সাথে হল শাখা ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হল গেটে তালা লাগানোর অধিকার কারো নেই। এটা অন্যায় কাজ। যেই ছেলে এ কাজ করেছে সে নিজেও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নয়। আমরা প্রাধ্যক্ষ পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।