জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে 'স্বৈরাচার' বলায় আওয়ামী লীগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। গতকাল জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে চুন্নু এসব কথা বলেন।

কালো টাকা সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, অর্থমন্ত্রীর নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, কারও একটা প্লট থাকলে তিনিই কালো টাকার মালিক। তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগের এক এমপি বিএনপির কথা বলতে গিয়ে এরশাদকে স্বৈরাচার বলেছেন। যার লাগি করলাম, সেই বলে চোর। তাহলে কোথায় যাই?' তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগের সঙ্গে এত খাতির করলাম, তিনবার চারবার জোট করলাম। নির্বাচন করে ক্ষমতায় আনলাম, এলাম। আর সেই আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা জিয়াউর রহমানকে গালি দিতে গিয়ে যদি এরশাদকেও গালি দেন, তাহলে আর যাই কোথায়? তাহলে তো নতুন করে ভাবতে হবে- কী করব, কোথায় যাব!'

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, 'অর্থমন্ত্রী বলেছেন ঢাকায় যার ফ্ল্যাট-প্লট আছে, সে-ই কালো টাকার মালিক। আমি পাঁচবারের এমপি, তিনবারের মন্ত্রী। আমার ঢাকায় কোনো বাড়ি নেই। ২০১১ সালে আমি পূর্বাচলে প্লট পেয়েছিলাম। তার মানে, অর্থমন্ত্রীর নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী আমি কালো টাকার মালিক হয়ে গেছি।' তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী মনের মাধুরী মিশিয়ে ও কথার ফুলঝুরি দিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন করেছেন, যার পাঠ উদ্ধার করা কঠিন।

চুন্নু বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন ৭ শতাংশ ট্যাক্স দিলে পাচার করা অর্থ বৈধ হয়ে যাবে। ৪০ বছর ধরে সব সরকারই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু কালো টাকা সাদা হয়েছে কম।' ব্যবসা করলে ২৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। তাহলে বিদেশে টাকা পাঠিয়ে ৭ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে হালাল করাই ভালো!' তিনি বলেন, 'এটা মানি লন্ডারিং আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইন সংশোধন করা না হলে এটা বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। কীভাবে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনবেন!'