ডিজিটাল স্কেলে ওজন কারচুপির অভিযোগে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাবান্ধা বন্দরের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওজন কারচুপির অভিযোগ এনে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন তারা।

এর আগে ওজন কারচুপির ঘটনায় স্থলবন্দরের দুই ওজন পরিমাপককে (স্কেলম্যান) বরখাস্ত করা হয়েছে।

আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উভয় পাশে পণ্যবাহী শত শত ট্রাক আটকা পড়ে গেছে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি আব্দুল লতিফ সমকালকে জানান, বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরে

ভারত, নেপাল ও ভূটান থেকে আমদানি করা পণ্য দুটি ওজন স্কেলে পরিমাপ করা হয়।

এসব স্কেলে কারচুপির মাধ্যমে আমদানি করা পন্যের ওজন বেশি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে। 

তিনি বলেন, স্থলবন্দরের একটি চক্র ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে কম ওজনে পন্য এনে বাংলাবান্ধায় বেশি পরিমাণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন। এতে স্থলবন্দরের আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যাবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থলবন্দরে পরিমাপকৃত আমদানি পণ্যের ওজন পরে কম হত। স্কেলম্যানকে তারা দুই একশ দিয়ে ওজন বৃদ্ধি করে আমাদের কাগজ দিতেন। এতে আমরা প্রতি গাড়িতে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকার পণ্য কম পেতাম। ’


স্থল বন্দরের কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। অনেক সময় ব্যাবসায়ীদের আমদানিকৃত পণ্য ওজনে কম হলে তারা আমাদের উপর দোষ চাপায়। এখন তারা ধরা পরেছে। আমরা তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।’

স্থলবন্দরের অচলাবস্থা কাটাতে শনিবার বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানি-রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক এক দফা দাবি জানিয়ে বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপককে প্রত্যাহার করতে হবে।

অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কারচুপির ঘটনায় দুই ওজন পরিমাপককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনায় সজাগ থাকাব আমরা। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাবান্ধা বন্দর সচল হবে।’