মানিকগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যাদের নাম ঘোষণা করেছেন, তাদের নাম প্রত্যাহার চেয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার বিকেলে তারা সার্কিট হাউসে কেন্দ্রীয় নেতাদের অবরুদ্ধ করেন।

সূত্র জানায়, শনিবার শহরের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। এর প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় অধিবেশন না ডেকেই সভাপতি হিসেবে মৃদুলা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আনোয়ারা বেগমের নাম ঘোষণা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম। তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদে স্লোগান দেন।

তাদের ভাষ্য, এ দুজনের কেউ-ই জেলা শহরে থাকেন না। ফলে নেতাকর্মীদের কাছেও তেমন গ্রহণযোগ্য নন।

জেলা মহিলা লীগের বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মী চ্যাটার্জির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতারা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণায় নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। উপস্থিত ৬০ জন ডেলিগেটের মতামত নেননি তারা।

লক্ষ্মী চ্যাটার্জি বলেন, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম দ্বিতীয় অধিবেশন না আহ্বান করেই সভাপতি প্রার্থী ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের আলাদাভাবে দাঁড়াতে বলেন।

এ সময় সভাপতি প্রার্থী নীনা রহমান, সেলিনা আক্তার, মৃদুলা রহমান, সখিনা আক্তার জেবা ও ফরিদা আক্তার কনা একপাশে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তিনিসহ আনোয়ারা বেগম, রোমেজা আক্তার মাহি, কাজী শিউলী ও নাজমা আক্তার অন্যপাশে দাঁড়ান।

এরপর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিজেরা মিলে দুই পদে একজনের করে নাম দিতে বলেন। সভাপতি পদে মৃদুলা রহমানকে সমর্থন করেন তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাধারণ সম্পাদক পদে লক্ষ্মী চ্যাটার্জির পক্ষেও দু’জন সমর্থন জানান। তবে মাহমুদা বেগম কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই সভাপতি হিসেবে মৃদুলা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আনোয়ারা বেগমের নাম ঘোষণা করেন।

পরে সার্কিট হাউসে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘেরাও করে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় নেতাকর্মীদের একাংশ। সেখানে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম বলেন, কমিটি গঠনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে ডেলিগেটদের মতামত ছাড়া কমিটি ঘোষণার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।