আগামী অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে বেসরকারি ও ব্যক্তি খাতে ঋণ গ্রহণের সুযোগ কমে যাবে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।

প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে রোববার রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক বিশ্নেষণ করে পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকারের মাত্রাতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ ঋণের কারণে লিকুইডিটি কমে যেতে পারে, যা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে বাধা তৈরি করবে।

এ ছাড়া রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ায় হয়রানি বৃদ্ধির আশঙ্কার পাশাপাশি ব্যাংকে ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে রাখা, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়াসহ অর্থনীতির বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আয়কর ও ভ্যাট বিষয়ে অর্থ বিলে আনা বেশ কিছু প্রস্তাব ব্যবসাবান্ধব নয় বলে উল্লেখ করেন এমসিসিআইর করবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধান আদিব এইচ খান।

পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, রাজস্ব আদায়ের হার ও বাজেট বাস্তবায়ন কম হওয়া অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে চলতি অর্থবছরের তুলনায় জিডিপির অনুপাতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ কমে গেছে। বিষয়টি সংশোধন করে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

খাদ্য নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান এমসিসিআই সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় ভালো।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।