হতদরিদ্র মা বিউটি বেগম। ৯ মাসের শিশু আলামিনকে বুকে ধারণ করে ঠাঁই নিয়েছিলেন আশ্রয়কেন্দ্রে। সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার তেররতন আশ্রয়কেন্দ্রে বানের জল থেকে বাঁচলেও ক্ষুধার জ্বালা নিভছিল না আলামিনের। দুধের জন্য শিশুর কান্নাই যেন মায়ের কান্না হয়ে দাঁড়ায়। 'কেউ বিউটিকে দেবেন এক কৌটা দুধ?' শিরোনামে সোমবার সমকাল একটি সংবাদ প্রকাশ করে। এতে সামনে আসে এক মায়ের সন্তানের দুধ না পাওয়ার কাহিনি। সংবাদটি প্রকাশের পর বিউটির সন্তানের পাশে দাঁড়ান অনেকে। শুধু এক কৌটা দুধ নয়, ওই পরিবারের যা প্রয়োজন তা-ই দিতে প্রস্তুত হন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হৃদয়বান মানুষ। নানাজনের সহমর্মিতা পেয়ে বিউটিও আপ্লুত।

সোমবার দুপুরে বিউটির হাতে দুধ তুলে দেন সিলেটের 'এসএসসির সোল '৯৩ ব্যাচে'র সামাজিক প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা। শুধু দুধ নয়, তাঁরা আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণও বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্ল্যাটফর্মের হেড অব অ্যাডমিন মোজাহিদ আহমদ, আলমগীর কবির মুন্না, আরিফ উদ্দিন, শেখ দেলওয়ার আহমদ, আবুল ফয়সল জিহাদ, হাসিনুজ্জামান, জাকির আহমদ চৌধুরী, আব্দুল হাদি রুম্মান। একই দিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত শামীম দুধ কেনার জন্য নগদ টাকা দিয়েছেন। এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ও গোপালগঞ্জ থেকে আরেক ব্যক্তি এবং সিলেটের মেটোসুর নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা বিউটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। হৃদয়বান মানুষ সন্তানের পাশে দাঁড়ানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিউটি। সন্তানকে দুধ প্রদান শেষে '৯৩ ব্যাচের হেড অব অ্যাডমিন মোজাহিদ আহমদ বলেন, বিউটির সন্তানের দুধের জন্য কান্নার রিপোর্টটি সমকালে দেখে আমরা এগিয়ে যাই। একটি মানবিক কাজে সহায়তা করতে পেরে আমরা আপ্লুত।
উপকমিশনার রিফাত রহমান শামীম বললেন, বিউটির পাশে আগামীতে থাকবেন তিনি। শুধু বিউটি নন, বন্যার্ত যে কোনো মানুষের সহায়তায় নিজের সামর্থ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।