একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী হিসেবে আরও ৪৮ সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। লিখিত অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সম্প্রতি এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এ তালিকায় রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, মাওলানা ও অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। তদন্ত শেষে তাঁদের সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

তদন্ত সংস্থার সূত্র জানায়, তাঁরা সবাই স্থানীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধী। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপি নেতা চট্টগ্রামের গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই), কক্সবাজারের মহসীন হায়দার চৌধুরী, যশোরের কেশবপুরের আমিন উদ্দিন।

তালিকায় থাকা যশোর বাঘারপাড়ার ১৬ জন হলেন- শামসুর রহমান, আকবর আলী, হাছান আলী শেখ, ফজলুর রহমান বিশ্বাস, ইবাদত মোল্লা, ইয়াকুব আলী, আবুল হোসেন মোল্লা, সিরাজুল ইসলাম, শামসুল হুদা, লুৎফর রহমান, খয়বার রহমান, নুরুল ইসলাম নুরু, আবুল হোসেন বিশ্বাস, আবু বক্কর মোল্লা, হোসেন আলী মোল্লা ও আবু সাঈদ। তালিকায় আছেন খুলনা তেরখাদার গাউস মোল্লা, কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের জহিরুল হক, বরগুনার পাথরঘাটার আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সুলতান আহমদ, ফজলুল হক খান, ইউসুফ আলী, আব্দুর রাজ্জাক ও হযরত আলী।

তালিকায় সুন্দরগঞ্জের মমতাজ আলী, সাদুল্যাপুরের আব্দুল বাকী, ফটিকছড়ির শওকতুল ইসলাম প্রকাশ, নড়াইল সদরের আরব আলী মীর, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মনসুর আলী সরদার, কালীগঞ্জের শেখ খোরশেদ আলম, জামালপুরের নুরুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের আব্দুল গণি, মৌলভীবাজারের জুড়ীর ছোয়াব আলী, খুলনা ডুমুরিয়ার আলী বক্স মোড়ল, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের শেখ আবুল হাশেম, হাবিবুর রহমান, রুস্তম আলী, আব্দুল হান্নান, হাসিম উদ্দিন, কুতুবউদ্দিন আনছারী ও ছলিম উদ্দিন রয়েছেন। এ ছাড়া তালিকায় আছেন ময়মনসিংহের কেন্দুয়ার তারা মিয়া, টাঙ্গাইলের মনিরুজ্জামান কোহিনুর ও আলমগীর হোসেন এবং বাগেরহাটের আবুল কালাম বেপারী। এদের মধ্যে ১৮ জন পলাতক। এদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা দিয়ে সশস্ত্র হামলা, হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তকরণসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১৯ ধারায় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে তথ্যচিত্র, সংবাদ, ব্যঙ্গচিত্র, গণহত্যা, ধর্ষণ, বাড়ি-ঘর জ্বালাও-পোড়াও, মানবতাবিরোধী অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ, জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সামনে আসবে। তদন্ত সংস্থা জানায়, সবার বিরুদ্ধেই প্রাথমিক তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর এম সানাউল হক সমকালকে বলেন, সন্দেহভাজন কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্তের কাজ চলছে। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় দাখিল করা হবে।

শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষে বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় স্থানীয় ও তৃণমূল যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ৪৬৩টি অভিযোগ জমা আছে। আসামির সংখ্যা ২ হাজার ৭৯৯ জন। ২০১০ সাল থেকে ১২ বছরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৪৬টি রায় হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে আরও ৩১টি মামলা এবং সর্বোচ্চ আদালতে রয়েছে ৩৪টি আপিল মামলা।