জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জি এম (গোলাম মোহাম্মদ) সিরাজ বলেছেন, বন্যাদুর্গতদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে পদ্মা সেতু উদ্বোধনে উল্লাস ও মাত্রাহীন উন্মাদনা বন্ধ করুন। এ সময় সরকারি দলের সদস্যরা হৈ চৈ করে তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

এর আগে বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। ২০২২-২৩ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান দুর্গত মানুষের দুর্দশায় এই উৎসব করাটা অমানবিক ও বেমানান।’

সিলেট ও সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সেদিকে সরকারের খেয়াল নেই। এখন তারা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের উৎসব উন্মাদনায় মত্ত। উৎসব উদযাপনে আমাদের আপত্তি নাই। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হোক। প্রধানমন্ত্রী আপনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে শুভ উদ্বোধন করুন। তবে  মাত্রাহীন উন্মাদনা বন্ধ করুন।’

‘২০০১ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর করেছিলেন’ দাবি করে জিএম সিরাজ বলেন, ‘পদ্মা সেতু সারাদেশের মানুষের স্বপ্নের সেতু। যার ভিত্তিপ্রস্তর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বাজেট আলোচনায় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম তার বক্তব্যে স্বীকারও করেছেন। সেই সেতু উদ্বোধনের প্রাক্কালে কোন দুঃখে বিএনপি ষড়যন্ত্র করবে?’

নির্বাহী আদেশে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান জি এম সিরাজ। তিনি বলেন, ‘বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁকে (খালেদা জিয়া) বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এখন তার মৃত্যু হলে এর দায় কে নেবে? এ দেশের আপামর জনসাধারণ এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমস্ত দায়ভার মাননীয় সংসদ নেতা আপনার ঘাড়ে চাপাবে।’

জিএম সিরাজ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বড় বড় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য। ছোট ব্যবসায়ী বা জনগণের জন্য নয়। মানুষের আয় বাড়েনি। মধ্যবিত্তরা মহাসংকটে। প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী তার বাজেটে দুর্নীতিবিরোধী কোনো পদক্ষেপের কথা বলেননি। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ট আত্মীয় সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই মোহতেশাম হোসেন বাবরকে ২ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং এর মাস্টারমাইন্ড এবং রিং লিডার বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। গত ১২ মাসে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিরা ২ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা জমা রেখেছেন।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন্যাদুর্গত এলাকায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফর মানুষের জনবল বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমরা উৎসবও করব, মানুষের পাশেও দাঁড়াব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনার সুরক্ষা সামগ্রী যেমন গ্ল্যাভস, মাস্কের মতো করোনা সুরক্ষাসামগ্রীতে করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি যেন প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া তিনি তামাকের ওপর কর বাড়ানো, পলিথিন নিষিদ্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করেন।