বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের জন্য সেতু বিভাগ যে সাড়ে তিন হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে, সেই তালিকায় নেই দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম।

'আইনী বাধা না থাকলে খালেদা জিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে- সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাধিকবার এ কথা বলছেন। তবে সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা সমকালকে জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দাওয়াত করার নির্দেশনা নেই।

বৃহস্পতিবার শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে সেতু বিভাগ। গত বুধবার বিএনপি কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সাত নেতা নামে আমন্ত্রণপত্র পৌছে দেন সেতু বিভাগের উপসচিব দুলাল সূত্রধর।

পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) রুপম আনোয়ার সমকালকে বলেছেন, খালেদা জিয়ার আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়নি। তিনি আমন্ত্রণ পাবেন কিনা- এ প্রশ্নে রুপম আনোয়ার বলেন, 'আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেই।'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা বহুবার অভিযোগ করেছেন, পদ্মা সেতুতে বিদেশ ঋণ বাতিলে ষড়যন্ত্র করেছিলেন খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্প বন্ধ করে দেয়।

যদিও বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, তাদের সরকারের আমলে পদ্মা সেতুর প্রকল্প বন্ধ করা হয়নি। বরং জাপানের অনুদানে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা করে বিএনপি জোট সরকার। পদ্মা সেতুর প্রাথমিক নকশা, জমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা (এলএপি), পুনর্বাসন পরিকল্পনা (আরএপি) এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (ইএমপি) সম্পন্ন করে যায় খালেদা জিয়ার সরকার। ৫৪ মাসে সেতু নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিল। আওয়ামী লীগের কারণে সেতু নির্মাণে তিন গুণ ব্যয় ও আট বছর সময় বেশি লেগেছে।