রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যশোর, বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার দীর্ঘদিন ধরে চলা সড়কপথের ভোগান্তির অবসান হচ্ছে। পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি মৎস্য ও কৃষিপণ্যের দ্বারও খুলেছে অপার সম্ভাবনা নিয়ে।

যশোর সদরের চুড়ামনকাটি এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম চলতি মৌসুমে সাত বিঘা জমিতে পেঁপে ও কচুর লতি চাষ করেছেন। স্থানীয় বাজারে দাম ভালো না পাওয়ায় গত রোববার ট্রাকে করে ঢাকায় নিয়ে যান। কিন্তু তিনি যে লাভের আশা করেছিলেন, সেটি হয়নি। ফেরি পারাপারে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ট্রাক ভাড়া দিতে হয় দেড় গুণ। পদ্মা সেতু চালু হলে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় ঢাকায় গিয়ে পণ্য বিক্রি করে আবার ফিরে আসতে পারবেন তিনি।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, দেশের সবজি, মাছের রেণু-পোনা এবং ফুলের একটি বড় অংশের উৎপাদন হয় যশোরে। এসব পণ্য এখন খুব কম সময়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো যাবে। এতে লাভবান হবেন কৃষকসহ সংশ্নিষ্টরা।

যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, চাহিদার ৫০ শতাংশের বেশি রেণু-পোনা উৎপাদন হয় জেলার চাঁচড়া এলাকায়। দেরির কারণে ৩০ শতাংশ পোনা মারা যেত। সেতু চালু হলে স্বল্প সময়ে পোনা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে পারবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুজ্জামান বলেন, যমুনা সেতু চালুর হওয়ার ফলে উত্তরাঞ্চলে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক বিপ্লব ঘটেছে। তেমনি পদ্মা সেতু চালু হলে উত্তরের মতো কৃষি বিপ্লব ঘটবে যশোর অঞ্চলেও।

যশোরে মোট ৩৩ ধরনের সবজি উৎপাদন হয়। হেক্টরপ্রতি সবজির গড় ফলন ২৩-২৫ টন। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর বিপুল পরিমাণ সবজি রাজধানী ঢাকাসহ পদ্মার ওপারে বিভিন্ন জেলায় যায়। সেতুটি চালু হলে দামও ভালো পাবেন কৃষক।

ফুল উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ঝিকরগাছা উপজেলা। সেখানে গদখালীতে উৎপাদিত ফুল দেশের অর্ধেকের বেশি চাহিদা মেটায়। কিন্তু পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে অনেক সময় ফুল পচে ক্ষতি সম্মুখীন হতে হয়। চাষি মঞ্জরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে ক্রেতা বেশি আসবেন। ফুলের দাম বেশি পাবেন।

যশোরের মতো বাগেরহাটের মানুষেরও জীবিকার প্রধান মাধ্যম কৃষিকাজ। তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও 'সাদা সোনাখ্যাত' চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ ঢাকার বাজারে নিয়ে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারবেন- এমনটাই আশা তাঁদের।

তিন যুগের বেশি সময় ধরে মিশ্র চাষের সঙ্গে জড়িত কাড়াপাড়া এলাকার মানিক শিকদার বলেন, আগে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার দিয়ে চিংড়ির রেণু-পোনা এসে মাওয়া

ফেরিঘাটে ১৫-২০ ঘণ্টা অপেক্ষা করত। ঘের পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক পোনা মারা যেত। এখন এ সমস্যায় পড়তে হবে না।
বাগেরহাট জেলায় কৃষক পরিবার রয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৮টি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেল বলেন, পদ্মা সেতু খুলে দিলে স্থানীয় চাষিরা যে মাছ ভোরে ধরবেন, তা সকাল ১০টার মধ্যে পাওয়া যাবে ঢাকার বাজারে। এতে চাষি যেমন লাভবান হবেন, তেমনি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ভোক্তারা টাটকা মাছ পাবেন।