স্বপ্নের পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। আজ (রোববার) সকাল পাঁচটা ৪০ মিনিট থেকে সাধারণ যানবাহন ছুটছে সেতু দিয়ে। বিশেষ এই দিনে সেতু ঘুরে দেখতে ভিড় করেছেন শত শত মানুষ। সেই সঙ্গে আছেন সেতুর দুই প্রান্তের নিয়মিত যাত্রী। তাদের পদ্মা পারাপারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় নামানো হয়েছে প্রায় ২৫টি বাস। 

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে আছেন সমকালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাজীব আহাম্মদ। বেলা একটার দিকে তিনি জানান, স্বপ্নের সেতু পাড়ি দিতে শত শত মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কিন্তু যানবাহন পাচ্ছেন না। ঢাকার দিক থেকে যেসব বাস আসছে তাতে আসন ফাঁকা নেই। এই পরিস্থিতিতে মাওয়ার পরে রুট পারমিট নেই এমন বাসে বেশি ভাড়া দিয়ে সেতু ভ্রমণ করছেন মানুষ। এছাড়া ঝুঁকি নিয়ে উচ্চ ভাড়ায় মোটরসাইকেল এবং মাইক্রোবাসেও সেতু পাড়ি দিচ্ছেন। 



আজ থেকে লঞ্চ বন্ধ। এদিকে বাসের সংকট। ফলে এই রুটের নিয়মিত যাত্রীরা যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান মুন্সীগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বকুল খান। তিনি গ্রিন লাইন এবং আপন পরিবহনেরও মালিক। সমকালকে তিনি বলেন, পুলিশ ফোন দিয়ে বাসের অভাবে জনদুর্ভোগের কথা জানিয়েছে। তাদের অনুরোধে আমার কোম্পানির ১৩টা বাস দিয়েছি। অন্য পরিবহনের বাসও এসেছে, আরও আসবে। এসব বাস যাত্রীদের পদ্মা সেতু পারাপার করাবে। 

ছবি- সমকাল । 

তবে সেতু পারাপারে এসব বাস এলেও ভাড়ার মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংখ্যা কমেনি। বরং সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে বলে জানান রাজীব রাজীব আহাম্মদ। বেলা একটার দিকে তার সঙ্গে কথা হয় দিলারা বেগম নামের এক যাত্রীর। দিলারা বলেন, আমি আগে লঞ্চে ৮০ টাকা দিয়ে নদী পার হতাম। এখন সেতু পার হতে ২০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে বাসে। ব্রিজ হয়ে লাভ কী হলো? টানা দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে বাস পেলাম। 

মাওয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন সমকালকে বলেন, মাওয়ার পরে রুট পারমিট নেই, এমন অনেক বাসে যাত্রীরা সেতু পার হচ্ছেন। আজকের জন্য বিশেষ বিবেচনায় রুট পারমিট দেখা হচ্ছে না। তবে সড়কে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে কিনা তা দেখছে পুলিশ। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও আমলে নিয়ে দেখা হবে।