পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি নিয়ে 'দুর্নীতির মিথ্যা গল্প' সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন প্রশ্নে পাঁচ বছর আগে জারি করা রুল শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য রেখেছেন হাইকোর্ট। 

এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ দিন ঠিক করেন।

এদিন আদালতে রুলটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি এবং 'দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃস্টির নেপথ্যে' থাকা প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং দোষীদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। 

চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও যোগাযোগ সচিব, আইজিপি ও দুদকের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

পাশাপাশি এ কমিটি বা কমিশন গঠনের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। 

পরে ওই বছরের ২০ মার্চ রুলের জবাব ও প্রতিবেদন দিতে আট সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৭ মে পর্যন্ত সময় বাড়ান হাইকোর্ট। পরবর্তীতে কয়েকদফা সময়ের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

এর মধ্যে কমিশন গঠনের জন্য ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর একজন সদস্যের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব করা হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। 

তিনি হলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (কারিগরি) মো. কামরুজ্জামান। পরবর্তীতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ পুনর্গঠন হওয়ায় রুলটি আর শুনানিতে উঠেনি।

এর আগের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে 'ইউনূসের বিচার দাবি: আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা' শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদের তথ্য নজরে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন হাইকোর্ট।