প্রিন্স চার্লসকে কাতারের জ্যেষ্ঠ এক রাজনীতিক ব্যাগে ভরে নগদ ৩ বিলিয়ন ইউরো (২৯ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা) দিয়েছেন। দুজনের মধ্যে বৈঠক চলাকালে নগদ ওই তিন বিলিয়ন ইউরো দেওয়া হয় বলে এক প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। 

এই বিপুল অংকের ইউরো আদান-প্রদানের ঘটনাটি ২০১৫ সালের। লন্ডনে রাজকীয় বাসভবন ক্ল্যারেন্স হাউজে ওই দুজনের মধ্যে ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠকের সময় ওই লেনদেন হয়। 

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম বিন জাবের আল-থানির সঙ্গে প্রিন্স চার্লসের ওই বৈঠকটি হয়েছিল। বৈঠক চলাকালে শেখ হামাদ মোট ৩ মিলিয়ান ইউরো (২ দশমিক ৬ মিলিয়ন পাউন্ড) প্রিন্স চার্লসকে প্রদান করেন। 

নগদ এই ইউরোর নোটগুলো ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারকে একটি সুটকেস, একটি কাপড়-চোপড় বহনের চারকোণা হোল্ডাল ব্যাগ এবং ফোর্টনাম অ্যান্ড ম্যাসন ব্র্যান্ডের একটি কাপড়ের ব্যাগে ভরে দেওয়া হয়। সাধারণত ফোর্টনাম অ্যান্ড ম্যাসন ব্র্যান্ডের দামি ওই ব্যাগ দিয়ে প্রিন্স চার্লস ও তার পরিবারের বাজার সদাই সরবরাহ করা হয়ে থাকে। 

এদিকে ক্ল্যারেন্স হাউজের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০১৫ সালে এক বৈঠকের সময় দেওয়া ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে চার্লসের সহযোগীদের দেওয়া হয়। যারা যথাযোগ্য চুক্তি করেছিল এবং আমাদের আশ্বস্ত করেছিল যে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

আরও মজার ব্যাপার হলো, সুটকেটে থাকা নগদ অর্থ চার্লসের দুই উপদেষ্টাকে দেওয়া হয়েছিল। তারা ওই অর্থ হাতে গুনে নিয়েছিল। 

এই অর্থ সংগ্রহের ব্যাপারে ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের সহযোগীদের বলা হয়েছিল, বেসরকারি ব্যাংক কউটস যেন নগদ ওই অর্থ সংগ্রহ করে। ব্যাংকটি রাজ পরিবারের জন্য কাজ করে। পরে প্রতিটি পেমেন্টে চার্লসের দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রিন্স অব ওয়ালস’স চ্যারিটেবল ফান্ডের (পিডব্লিউসিএফ) অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়। রোববার সানডে টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ওই লেনদেনে অবৈধ কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।