আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লুটেরাদের কাছে চলে যাওয়ায় অবাধে লুটপাট চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগও নিশ্চুপ।

রোববার সংসদের বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এই মন্তব্য করেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। 

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লুটেরাদের কাছে চলে গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবাধ লুটপাট চলছে। যেন দেখার কেউ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ডিভিশন নীরব, নিশ্চুপ। কোনোভাবেই লুটপাট থামানো যাচ্ছে না। 

তিনি প্রশ্ন রাখেন, পি কে হালদার হাজার কোটি টাকা লুট করে কিভাবে বিদেশে চলে গেল। এটি একদিনে হয়নি। পিকে হালদার ৬ জন বান্ধবীকে নিয়ে ১৩৩ বার বিদেশে ভ্রমণ করেছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, অর্থমন্ত্রী ধনীদের চেহারা সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করেছেন। তিনি তেল আর জল এমনভাবে মিশিয়েছেন, তা আলাদা করা সম্ভব নয়। 

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, বাজেট পড়ে বলা যায় সুখে থাকা মানুষগুলো বোঝে না গরীবের দুঃখ কষ্ট কী; স্বপ্ন দেখা মানুষগুলো বোঝে না বাস্তবতা কত নির্মম, কত কঠিন। অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি। একজন স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট। প্রথম শ্রেণির ধর্ণাঢ্য শিল্পপতি। সর্বোপরি তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী। যেকোনো জটিল হিসাব তার কাছে মিলিয়ে দেওয়া অত্যন্ত সহজ। এই বাজেটেই তার প্রতিফলন আমরা দেখলাম। 

২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটের সমালোচনায় কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, অর্থমন্ত্রী এই বাজেটে তেল আর জল এমন সূ²ভাবে মিশিয়েছেন যে, তা আর আলাদা করা সম্ভব নয়। ধনীদের চেহারা সামনে রেখে উনি এই বাজেট প্রণয়ন করেছেন। ওই সময় মনে হয় ওনার কাছে গরীবের অঙ্কটা একদমই ছিলো না।

তিনি বলেন, এক ব্যাংকের পরিচালক আরেক ব্যাংক থেকে টাকা নেন। আবার ওই ব্যাংকের পরিচালক নেয় এই ব্যাংক থেকে। টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে না। একে অপরের সাথে যোগজাশসে এটা করছে। তিনি বলেন, উচ্চ মুল্যস্ফীতি লাগামহীনভাগে বাড়তে থাকলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

জাতীয় পার্টি-জাপার এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, লুটেরাদের আড়াল করতে গণতদন্ত কমিশন নামে যাদের কোনো ভিত্তি নেই, তারা ২২০০ পৃষ্টার প্রতিবেদন দিয়েছেন। দুই বছর তারা সারা দেশে ঘুরেছে। এই টাকা তারা কোথায় পেল।

কর দিয়ে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব সমর্থন করে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, টাকা যা পচার হওয়ার হয়ে গেছে। এই প্রস্তাব অনৈতিক হলেও তিনি সমর্থন করেন। 

তিনি ৭ শতাংশের বদলে ১২ শতাংশ কর দেওয়া এবং সে টাকা দেশে বিনিয়োগ করবে এই বিনিয়োগ করার মুচলেকা দিয়ে এই সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, পদ্মা সেতু কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। এই সেতু জাতির গর্ব, অহঙ্কারের বিষয়। বিশ্বে এই সেতু বাংলাদেশের আর্থিক শক্তি, সক্ষমতার বার্তা পৌছে দিয়েছে। টাকা আদায়ের জন্য এই সেতু করা হয়নি। জনগণের স্বার্থে তিন কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী এই সেতু উপহার দিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বলেন, অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে সংসদে কথা বলতে বলতে সংসদ সদস্যরা ক্লান্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু ঋণ খেলাপিরা ক্লান্ত হয়নি। কিছু ছোট খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

বিএনপি নেতাকর্মীদের পদ্মা সেতুতে না উঠার পরামর্শ  

বিএনপি নেতাকর্মীদের পদ্মাসেতু পার না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শাজাহান খান। 

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ চলাকালে খালেদা জিয়া ঈর্ষান্বিত হয়ে বলেছিলেন-‘আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না। জোড়াতালি দিয়ে সেতু বানানো হচ্ছে। আপনারা কেউ পদ্মা সেতুতে উঠবেন না।’  

শাজাহান খান বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ এখানে আছেন। দয়া করে আপনারা কেউ পদ্মা সেতু পার হইয়েন না। আপনাদের নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করবেন না। আপনাদের জন্য আমরা নদীর পারে নৌকা রেখে দেবো। সেই নৌকায় দরকার হলে আপনাদের পার করবো। এই নৌকা স্বাধীনতা এনেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন সাধন করেছে এই নৌকা। নৌকায় আপনাদের আসতে হবে। 

পদ্মা সেতু পার হয়ে নিজ এলাকায় মাদারীপুর থেকে দুই ঘণ্টায় ঢাকা পৌছানোর কথা জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, সেতু পার হতে সময় লেগেছে ৫ মিনিট। এর আগে ফেরি দিয়ে মাদারীপুর থেকে আসতে সময় লাগতো ৫ ঘণ্টা। সাধারণ যাত্রীদের ফেরিপার হতে নূন্যতম ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগত। 

তিনি বলেন, ঈদ পার্বণ বা দুর্যোগপূর্ণ আবহওয়া হলে কখনও ১২-১৪ ঘণ্টা সময় লাগত। এই অঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেত না। তবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে শেখ হাসিনাকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়েছে। অপমান সইতে হয়েছে।

ড. কামাল হোসেন, আ.স.ম আব্দুর রব, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা আছেন যারা পথহারা পাখির মত নিজেরা পথ হারিয়ে আবোলতাবোল বলছেন। তারা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে জামাত-শিবির স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়।

তিনি বলেন, বাংলার সব থেকে হিংসুটে মহিলা কে? বাংলার শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী কে? বাংলার শ্রেষ্ঠ প্রতারক কে? বাংলা পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছেন কে? বাংলাদেশের কোন সরকার প্রধান এতিমের টাকা চুরি করে সাজা ভোগ করছেন। আমার এই ৫টি প্রশ্নের উত্তর একটি। সেটি হলো খালেদা জিয়া।