ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংকট। গৌহাটির হোটেলে আশ্রয় নেওয়া অন্তত ২০ বিদ্রোহী বিধায়কের সঙ্গে উদ্ধব ঠাকরের যোগাযোগ রয়েছে। এমনটাই দাবি করেছে উদ্ধব শিবির। পাশাপাশি একনাথ সিন্ধের শিবিরের ওপর চাপ আরও বাড়াতে তাঁদের কয়েকজনের প্রশাসনিক পদ কেড়ে নেওয়া হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে মহারাষ্ট্র সরকারের প্রবীণ মন্ত্রী একনাথ সিন্ধে, গুলাবরাও পাটিল ও দাদা ভুসে মন্ত্রিত্ব হারাতে পারেন। এ ছাড়া আব্দুল সাত্তার ও শম্ভুরাজে দেশাইয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে, বিদ্রোহী নেতা সিন্ধে শনিবার মধ্যরাতে বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডনবিশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

বিদ্রোহীদের মধ্যে বিজেপিতে মিশে যাওয়ার প্রস্তাব নিয়ে দ্বিমত আছে। অনেক বিধায়কই বিজেপির সঙ্গে মিশে যেতে চান না। এই মতবিরোধের ফায়দা তুলতে পারবে উদ্ধব শিবির।

এদিকে, অসমের হোটেলের বর্তমান আবাসিক ১৫ জন বিদ্রোহী শিবসেনা বিধায়কের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা হয়েছে। তা নিয়ে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে এক হাত নিয়েছেন উদ্ধব ছেলে আদিত্য ঠাকরে। সান্তাক্রজের দলীয় সমাবেশে বিদ্রোহী বিধায়কদের দেশদ্রোহী তকমা দিয়ে তিনি বলেন, দেশদ্রোহীদের সিআরপিএফ নিরাপত্তা না বাড়িয়ে কাশ্মীরিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দিকে নজর দিন।

এ পরিস্থিতিতে মুম্বাইসহ মহারাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশাসনের মাথাব্যথা বাড়ছে। প্রায় দু'দিন ধরে বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্রোহী বিধায়কদের অফিস ও বাড়িতে শিবসৈনিকদের হামলার পর গতকাল রোববার থেকে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করেছে মুম্বাই পুলিশ। গতকালও শহরের বিভিন্ন জায়গায় একনাথের কুশপুত্তলিকা জ্বালিয়ে, পোস্টারে কালি লেপে প্রতিবাদ করেছেন উদ্ধব শিবিরের সমর্থকরা। এ ছাড়া তাঁরা বিশাল বিশাল বাইক মিছিল করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ হয়েছে মুম্বাইয়ে। নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলা হয়েছে রাজ্যের সব মন্ত্রীর বাসভবন এবং দলীয় দপ্তর।

মহারাষ্ট্র বিধানসভার ভোট হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে। ২৮৮ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় বিজেপি পায় ১০৬ আসন। শিবসেনা পায় ৫৬ আসন। শারদ পাওয়ারের এনসিপি পায় ৫৪ আসন। আর কংগ্রেস পায় ৪৪ আসন। মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিতে অনড় থেকে শিবসেনা শেষ পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে এনসিপি ও কংগ্রেসের সমর্থনে গঠন করে 'মহা বিকাশ আগাড়ি' জোট সরকার। আড়াই বছর কাটতে না কাটতেই এ সরকার বিদ্রোহের মুখে পড়েছে। এনডিটিভি।