পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু হাত দিয়ে খোলা সম্ভব না বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল মাসুদ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোনো যন্ত্রাংশ ছাড়া শুধু হাত দিয়ে পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খোলা সম্ভব নয়। এটি একটি অন্তর্ঘাতমূলক কাজ। পদ্মা সেতুর যারা নাট-বল্টু খুলেছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ জানায়, শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ উঠে পড়েন মূল সেতুতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরে তাদের সরিয়ে দেন। পরদিন সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার পর দিনের বিভিন্ন সময়ে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এরই ফাঁকে আলোচিত ভিডিওটি করেন বায়েজিদ।

এদিকে পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খুলে টিকটক করার ঘটনায় বায়েজিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হচ্ছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলা দায়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে।

জানা গেছে, সিআইডি বাদী হয়ে মামলাটি করছে। এর আগে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও তৈরি করে ভাইরাল হওয়া সেই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হেফাজতে নেওয়া হয়।

সিআইডির সাইবার ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, তাকে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়। পরে আলোচিত ভিডিওটি করেন বায়েজিদ। ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুবক সেতুর রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে দুটি বল্টুর নাট খুলে একটি নাট হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই লুজ দেহি, লুজ নাট, আমি একটা ভিডিও করতেছি, দেহ।’

‘এই হলো পদ্মা সেতু আমাদের...পদ্মা সেতু। দেখো আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু। এই নাট খুইলা এহন আমার হাতে।’

এ সময় পাশে থেকে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘ভাইরাল কইরা ফালায়েন না।’ পরে ভিডিওটি বায়েজিদের টিকটক অ্যাকউন্টে ‘প্রাইভেট’ করা অবস্থায় দেখা গেছে।