দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের পৌনে ৬ লাখ শিক্ষার্থী বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোতে পানিবন্দি অবস্থায় আছে। ১৮ জেলায় এ শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৬৮। এসব জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্যার্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সিলেটে। সেখানে দুই লাখ ৮ হাজার ১৯৩ শিক্ষার্থী দুর্ভোগে রয়েছে। সুনামগঞ্জে এক লাখ ৭৪ হাজার ২৬২ শিক্ষার্থী পানিবন্দি। গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে।

তাদের দেওয়া তথ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বন্যার্ত শিক্ষার্থীর পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল সিলেট অঞ্চলের চার জেলা- সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৫ হাজার ৫৪টি। এর মধ্যে গত বুধবার পর্যন্ত ৩ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত ছিল। বন্যায় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এক হাজার ১৪৮টি বিদ্যালয়। প্লাবিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা দুই হাজার ৮২৮টি।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব তথ্য সংগ্রহ করে মাউশি। বন্যার কারণে এরই মধ্যে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আসন্ন ঈদের পর এ পরীক্ষা নেওয়ার সময়সীমা ঘোষণা করা হবে বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে।
বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা চলছে। মাউশি থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, সোমবার পর্যন্ত ৫৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯১৭টিতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। আংশিক সম্ভব হচ্ছে ১০২টিতে। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিন পবিত্র ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি আছে।