স্বপের পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়ে মোটরসাইকেল যাত্রীরা। তারা সেতু দিয়ে যেতে না পেরে মোটরসাইকেল নিয়ে ভিড় জমায় জাজিরার মঙ্গলমাঝির ঘাটে। ফেরি চলাচল না করায় সেখানে গিয়েও নিরাশ হন তারা। ফিরে যেতে হয় তাদের। সকালের দিকে ট্রাক ও পিক-আপে করেও মোটরসাইকেল পার করতে পারেননি যাত্রীরা। তবে বিকেলের দিকে সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোলপ্লাজার কিছু দূরে মিনি ট্রাক ও পিক-আপে করে মোটরসাইকেল পার করছেন যাত্রীরা।

সকাল ১০টায় মাওয়া (শিমুলিয়া) ঘাট থেকে একমাত্র কুঞ্জলতা নামে একটি ফেরি মঙ্গলমাঝির ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। ফেরিটি মাঝ পদ্মার চরে আটকে পড়ে। পরে দুপুর ৩টার দিকে ফেরিটি মঙ্গলমাঝির ঘাটে আসতে সক্ষম হয়। ফেরিটি দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে আবার মাওয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফেরি চলাচলের খবর পেয়ে মোটরসাইকেল যাত্রীরা আবার ঘাটে আসতে শুরু করেন। কিন্ত আবার কখন ফেরি আসবে এবং যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

শিবচরের যুবক রিফাত ব্যবসা করেন ঢাকায়। সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে মঙ্গলমাঝির ঘাটে আসেন। এসে শুনতে পান ফেরি চলে না। নিরুপায় হয়ে তিনি ফিরে যান। ফেরি আসার খবর শুনে মাদারীপুরের শিবচর থেকে তিনি ৪টার দিকে আবার ঘাটে আসেন। এসে শুনেন ফেরি আধাঘণ্টা আগে ছেড়ে চলে গেছে।

রিফাত বলেন, আমি ঢাকায় ব্যবসা করি। জরুরি ঢাকা যাওয়া দরকার। পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল নিষেধ করায় আমি ঢাকা যেতে পারছি না। আমি বিপদে আছি।

এদিকে বিকেলের দিকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোলপ্লাজার কিছু দূরে মিনি ট্রাক ও পিক-আপে করে মোটরসাইকেল পার করছেন যাত্রীরা। এতে তাদের পাঁচশত টাকা করে গুনতে হচ্ছে। তবে সকালের দিকে ট্রাক ও পিক-আপে করে মোটরসাইকেল পার করতে পারেনি যাত্রীরা। সেতু কর্তৃপক্ষ টোলপ্লাজা থেকে মোটরসাইকেলবোঝাই ট্রাক ও পিক-আপ ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানান কয়েকজন মোটরসাইকেল যাত্রী।

এদিকে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা মঙ্গলমাঝির ঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। নেই চিরচেনা সেই যানবাহন ও যাত্রীদের ভিড়। নেই কোনো কোলাহল ও হাকডাক। দু-একটি ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোট সার্ভিস চালু রাখলেও নেই যাত্রীদের চাপ। অনেকক্ষণ পর পর একটি দুটি মোটরসাইকেল ঘাটে আসতে  দেখা গেছে।

সাড়ে ৩টার দিকে একমাত্র কুঞ্জলতা নামে একটি ফেরি ৫০টির মতো মোটরসাইকেল নিয়ে মাওয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এছাড়া আর কোনো ফেরি এ ঘাট থেকে ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। তবে সারা দিনে ১০টি মতো লঞ্চ ৫০ থেকে ৭০ জন যাত্রী নিয়ে এপার ওপার যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

মঙ্গলমাঝি ঘাটের ইনচার্জ ও লঞ্চমালিক মোকলেছ মাদবর বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এ ঘাটে যাত্রী নেই বললেই চলে। দেড় দুই ঘণ্টা পর পর ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়তে হচ্ছে। এ পেশার সাথে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার জড়িত। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই, লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের।

জাজিরা প্রান্তের টোল ম্যানেজার মো. কামাল হোসেন বলে, ট্রাক বা পিকআপে মোটরসাইকেল বা যাত্রী পারাপারের কোনো নিয়ম নেই। আটকে পড়া মোটরসাইকেল ও যাত্রীদের বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে পারাপারে সীমিত সময়ের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।