একনাগাড়ে ভারী বৃষ্টির কারণে ভারতের সিকিমে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে পাহাড়ে। এতে রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত দুই শিশুসহ মারা গেছেন এক মা। সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকের কাছে রঙ্গে দোকান দারা দেচিলিঙে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। 

আজ (মঙ্গলবার) সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গ্যাংটকের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) রবিন শেরপা। তিনি বলেন, পাহাড়ে ভূমিধসের কারণে বিমল মঙ্গার নামের একজনের ঘর ভেঙে পড়ে। এতে ওই ঘরে ঘুমিয়ে থাকা দুই শিশু ও তাদের মা নিহত হন। 

তিনি জানান, ঘটনার পরে ডিসট্রিক্ট স্পেশাল রেস্কিউ ফোর্স (এসডিআরএফ) উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। বিমল মঙ্গারের স্ত্রী ডোমা শেরপা (২৭), তাঁর আট বছর এবং সাত মাসের দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিমল এখনো নিখোঁজ। 

এ নিয়ে চলতি মাসে পাহাড়ে ভূমিধসের ঘটনায় সিকিমে সাতজনের মৃত্যু হলো বলে জানান এসডিএম। তিনি বলেন, দফায় দফায় ধসের জেরে এলাকার একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

এদিকে, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ-সহ সিকিম এবং ভুটানে ভারী বর্ষণ হবে। এতে সিকিমে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের লাইফ লাইন বলে পরিচিত ১০ নং জাতীয় সড়কে কালিঝরার কাছে মঙ্গলবার সকালে ধস নামে। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। রাস্তার দুই ধারে আজ দুপুরেও অনেক গাড়ি আটকে ছিল। 


ভারী বর্ষণের জেরে মেঘালয়ের পশ্চিম গারো পাহাড়ি জেলাতেও ভয়াবহ ভূমিধস হয়েছে। বাগমারার জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে সিজুর কাছে রংডং পাহাড়ে একটি নারিকেল বাগানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। যদিও ভূমিধসের কারণে প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। 


সোমবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার জেলায়। সকাল ১০টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ২০৮ মিলিমিটার। ব্যাপক বৃষ্টিতে প্লাবিত জলপাইগুড়ি শহর ও সদর ব্লকের বেশির ভাগ গ্রাম। বাহাদুর অঞ্চলের বাসুয়া পাড়া গ্রামের মধ্য দিয়ে বইছে নদীর স্রোত। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি। পৌরসভার ২৫টি ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট যেন নদীর রূপ নিয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার সর্বত্র অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ি ঝোরা এবং নালাগুলো ফের ফুলেফেঁপে উঠতে শুরু করেছে।