সারা দেশে ধারাবাহিক শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদে আগামী ১ জুলাই সারাদেশের জেলা ও উপজেলা শহরে প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে নির্যাতন ও ঢাকার আশুলিয়ায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা আসে।

সমাবেশে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে নির্যাতনকারী ও উৎপল সরকারের খুনের ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান সংস্কৃতিকর্মীরা। স্বপন কুমার বিশ্বাসকে নির্যাতনের সময় পুলিশ সদস্যদের নির্লিপ্ততা ও মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের নেপথ্যে থাকা শিক্ষকদেরও নিন্দা জানান তারা।

সমাবেশে নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্ভোধনের দিনে সবাই যখন অমর কীর্তি পদ্মা সেতুর উৎসব পালন করছে, ঠিক তখন সমাজ গভীর অন্ধকারে নিমজ্জ্বিত। নড়াইলে শিক্ষকদের অন্তর্কোন্দলের বলি অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সাথে কলেজ ছাত্র ও বহিরাগতরা মিলে পুলিশের সামনে তাকে জুতার মালা পরিয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত জড়িতদের মুল হোতাদের আটক করা হয়নি। 

তিনি বলেন, দেশে শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হৃদয় মন্ডলের পরে ধারাবাহিকভাবে ঘটনা ঘটছে। আশুলিয়াই শিক্ষককে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষক সমাজ নির্লিপ্ত। সর্ব্বোচ্চ বিদ্যাপিট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেক সংগঠন আছে। তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি। আবার প্রত্যেকটি ঘটনায় শিক্ষকদের অপরাজনীতি ও শিক্ষকদের একটি পক্ষ জড়িত।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা ঘুমিয়ে, কবে তাদের নিজের গলায় জুতার মালা উঠবে? তখন কি তারা প্রতিবাদ করবেন? তারা যদি এখন প্রতিবাদ না করেন তবে বিপদ ঘনিয়ে আসলে কেউ প্রতিবাদ করবে না।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, পুলিশের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়া, সম্মান দেয়া। কিন্তু পুলিশ এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। পুলিশ প্রহরায় সাম্প্রদায়িক ঘোষ্ঠী শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়। দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের একটি পক্ষ অধ্যক্ষকে সরাতে এ ঘটনায় ইন্ধন দেয়। ছাত্রদের মধ্যেও আজেক নৈতিক শিক্ষা নেই। 

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্ররা আজকে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষক নির্যাতন করেছে। ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা সংশোধন করতে হবে। সাথে জড়িত শিক্ষক ও পুলিশদের বিরুদ্ধেও শাস্তি নিতে হবে।

নাট্যব্যক্তি নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বলেন, আগের ঘটনায় আসামিদের শাস্তির আওতায় না আনায় নতুন করে ঘটনা ঘটছে। আসামিরা জামিনে বের হয়েও এ ধরণের কাজ আবার করছেন। তাই এসব ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে।

নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ বলেন, রাষ্ট্র অসাম্প্রদায়িক শক্তির দখলে কিন্তু সমাজে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প। পাকিস্তানিরা যে বীজবপন করেছেন তা আজকে মহীরুহ হয়ে উঠেছে। এই উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠীই বারবার সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আঘাত করছে। তাই শিক্ষকরাও তাদের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। একজন শিক্ষক আক্রান্ত হলে কেউ প্রতিবাদ করছেন না।