বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) নেতারা বলেছেন, কাঁচামাল সংকটের কারণে খুলনা অঞ্চলসহ সারাদেশে একের পর এক হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যে পরিমাণ বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদন হয়, তা দিয়ে কারখানাগুলোর চাহিদা মেটে না। সে কারণে বিশ্বের ৬২টি দেশের মতো বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি প্রজাতির চিংড়ি চাষের অনুমতি প্রয়োজন।

তারা বলেন, বাগদা ও গলদা চিংড়ির তুলনায় প্রতি হেক্টর জমিতে ভেনামি চিংড়ির উৎপাদন হয় কয়েক গুণ বেশি। যেসব প্রতিষ্ঠান রুগ্‌ণ হয়ে গেছে, ভেনামি প্রজাতির চিংড়ি চাষ হলে সেগুলো আবার সচল হবে। রপ্তানি আয়ও বাড়বে।

বুধবার 'চিংড়ির উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে বাগদা চিংড়ির পাশাপাশি ভেনামি চিংড়ির বাণিজ্যিক চাষের আবশ্যকতা' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফিশারি প্রোডাক্টস প্রমোশন কাউন্সিল ও বিএফএফইএ যৌথভাবে শ্রিম্প টাওয়ারে এ আয়োজন করে।

সভায় জানানো হয়, দেশে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিল ১৭৮টি। কাঁচামাল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ৭৩টি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। কাগজে-কলমে ১০৫টি টিকে থাকলেও বাস্তবে চালু আছে ৩০-৩৫টি প্রতিষ্ঠান। তারা নিয়মিত রপ্তানি করে থাকে। বাকিগুলো লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হয়ে গেছে। চালু থাকা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বছরে চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন চিংড়ি। কিন্তু দেশে এখন বছরে ৫০-৬০ হাজার টন গলদা ও বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়। এর মধ্যে কিছু চিংড়ি স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়। আর রপ্তানিকারক কারখানাগুলো ৩০-৩৫ টন রপ্তানি করতে পারে।

সভায় জানানো হয়, এক হেক্টর জমিতে সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করলে বছরে উৎপাদন হয় ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি। অথচ একই জমিতে উন্নত পদ্ধতিতে ভেনামি চিংড়ি চাষ করলে উৎপাদন হয় ১০ টন। সরকার ২০১৯ সালের মে মাসে ভেনামি চিংড়ি চাষের তিনটি পাইলট প্রকল্পের অনুমতি দেয়।

গত বছরের এপ্রিলে খুলনার পাইকগাছায় নোনা পানি গবেষণা কেন্দ্রের ছয়টি পুকুরে এমইউসি ফুডস পরীক্ষামূলকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষ করে। চলতি বছর খুলনার ৩০টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করলেও আটটিকে পরীক্ষামূলকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের অনুমতি দেয়নি সরকার। এ ছাড়া পাইলট প্রকল্প হওয়ায় এই খাতে কোনো ব্যাংক ঋণ দেয় না। এ কারণে অবিলম্বে বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান রপ্তানিকারকরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএফএফইএর সহসভাপতি হুমায়ুন কবীর। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএফএফইএর সিনিয়র সহসভাপতি এম খলিলুল্লাহ, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহমেদ। সভায় চিংড়ি চাষি শেখ রফিকুজ্জামান, রপ্তানিকারক শেখ আবদুল বাকীসহ চাষি ও রপ্তানিকারকরা উপস্থিত ছিলেন।