পিরোজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হট্টগোলের মুখে পণ্ড হয়ে গেছে। বুধবার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ঢাকার নেত্রীরা কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের রোষানলে পড়েন। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর এর কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় নেত্রীরা চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে একপক্ষ তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখে। সাবেক এমপি ও এক মন্ত্রীর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের জন্য গতকাল বুধবার কাউন্সিল সম্মেলন আহ্বান করা হয়। উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি সাফিয়া খাতুন। সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক প্রধান বক্তা ছিলেন। কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেত্রী বিশেষ অতিথি হিসেবে এতে যোগ দেন।

কেন্দ্রীয় সভাপতির উদ্বোধনী ভাষণের পর নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহরিয়ার ফেরদৌস লুনা বক্তব্য শুরু করলে এক পক্ষ আপত্তি জানায়। তিনি সংগঠনের সদস্য নন এবং জেলা নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলেছেন বলে বাধাপ্রাপ্ত হন। এরপর যুব মহিলা লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিনা আফরোজকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে উপস্থাপক বাধা দেন। এ সময় অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শিরিনাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে হট্টগোল শুরু হয়।

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, সংগঠনের সদস্য নন এমন দু-একজনকে বক্তব্য দিতে দিলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন। এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেত্রীরা পুলিশের হস্তক্ষেপে জেলা সার্কিট হাউসে চলে যান। পরে জেলা সভাপতি লায়লা পারভীন ও সাধারণ সম্পাদক সাহিদা বারেক সম্মেলন মঞ্চে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় নেত্রীদের দায়ী করেন। তাঁরা নতুন জেলা কমিটি ঘোষণারও দাবি জানান।

সার্কিট হাউসে কেন্দ্রীয় নেত্রীরা পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এর জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়ালসহ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক ও তাঁদের অনুসারীদের দায়ী করেন। তাঁরা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নারীদের অসম্মান করেছেন। তিনি নারী বক্তাকে মারতে এসেছেন, গালাগাল করেছেন। ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে জেলা কমিটি বহাল থাকবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ হাকিম হাওলাদার বলেন, সার্বিক ঘটনা অনভিপ্রেত। সভাপতি একেএমএ আউয়াল তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, সম্মেলনে তিনি কাউকে অসম্মান বা অপমান করেননি। যাঁদের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে বিশৃঙ্খলা হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে শুধু কথা বলেছেন। তাঁরা মহিলা আওয়ামী লীগের কেউ নন, তাঁরা কেন বক্তব্য দেবেন।