জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

শুক্রবার গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার ষষ্ঠ বার্ষিকী উপলক্ষে 'দীপ্ত শপথ' ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এসময় র‍্যাবেরর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈনসহ র‍্যাব সদর দপ্তরের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হলি আর্টিজান হামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহকারী কমিশনার এসি রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার তৎকালিন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন নিহত হন। তাদের স্মরণে গুলশান মডলে থানার পুরনো ভবনের সামনে দীপ্ত শপথ নামে এই দুই অফিসারের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। প্রতি বছর হলি আর্টিজানের হামলার বার্ষিকীতে দীপ্ত শপথ ভাস্কর্যে তাদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আজ থেকে ৬ বছর আগে ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই হলি আর্টিজানে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে এতে ৩ বাংলাদেশিসহ ২০ জন নিহত হন। দুই পুলিশ অফিসার বীরত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হন।

তিনি বলেন, র‍্যাব সব সময় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান কর্ণেল আজাদ সিলেটে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হন।

র‍্যাব ডিজি বলেন, হলি আর্টিজান ঘটনার পর পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে আমরা ওই এলাকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম। অভিযান পরিচালনা করার মতো একটি পরিবেশ সৃষ্টি করি।

'দীপ্ত শপথ' ভাস্কর্যে র‍্যাব মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি- সমকাল

এখন পর্যন্ত র‍্যাব ৩ হাজার জঙ্গি গ্রেপ্তার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, র‍্যাব আজ পর্যন্ত ৩ হাজার জঙ্গি গ্রেপ্তার করেছে। হলি আর্টিজানের পর আমরা ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছি। গ্রেপ্তার জঙ্গিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মূল পরিকল্পনাকারী নিউ জেমএবির আমির সারোয়ার জাহান, অর্থায়ন ও পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত শরিফুল ইসলাম খালেদ ও মামনুর রশিদ রিপন। 

র‍্যাব ডিজি বলেন, বিভিন্ন বাহিনী আমরা একসঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করি। সরকার ঘোষিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অংশ হিসেবে আমরা সমন্বিতভাবে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ও তাদের আস্তানা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ দমনে সাইবার জগতে আমরা জঙ্গি কার্যক্রমের বিষয়ে নজর রাখছি। জঙ্গিবাদ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বাহিনী একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। এ কারণে জঙ্গিবাদ এখন তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারছে না। তারপরও আমরা কিন্তু আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না, সব সময় সতর্ক আছি।

জঙ্গিদের ডিরেডিকালাইজেশনের কাজ করা হচ্ছে উল্লেখ করে র‍্যাব ডিজি বলেন, আমরা ইতমধ্যে ১৬ জঙ্গিকে ডিরেডিকালাইজেশন করেছি। আমরা ১৬ জন জঙ্গিকে আত্মসমর্পণ করিয়েছি। তাদের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি, যাতে করে তারা আবার জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়তে না পারে। 

তিনি আরও জানান, কেউ জঙ্গিবাদের পথ ছেড়ে ভালো পথে আসতে চায়, কোনো অপরাধে জড়িত হয়নি তাদের ডিরেডিকালাইজেশন করে ভালো পথে শান্তির পথে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে র‍্যাব।