কাসমির রেজা। হাওরের মানুষের জন্য এক যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। সমতলের অন্য এলাকা থেকে কিছুটা ভিন্ন হাওরের মানুষের জীবন। তাঁরা বছরের ছয় মাস থাকেন পানিবেষ্টিত। বাকি ছয় মাস চলতে হয় হেঁটে। তাই তাঁদের 'বর্ষায় নাও, হেমন্তে পাও'ই ভরসা। হাওরে রয়েছে নানা সমস্যা এবং সম্ভাবনা। গত এক যুগ ধরে এসব এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই করে যাচ্ছেন হাওর অন্তপ্রাণ তরুণ কাসমির রেজা। হাওরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নানা সমস্যা তাঁকে তাড়িত করে। দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ছুটে চলেন হাওর থেকে হাওরে। হাওরের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছেন নীতিনির্ধারকদের কাছে। অধিকার আদায়ে সচেতন করছেন সুবিধাবঞ্চিত হাওরবাসীকে। এক যুগ আগে সমমনা আরও কয়েকজনকে নিয়ে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন কাসমির রেজা। সেই থেকে সুনামগঞ্জ জেলার হাওর এলাকার মানুষের দুঃখ লাগবে চলছে তাঁদের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা। তাই হাওরের এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে জেলে এবং কৃষকদের কাছেও তিনি হাওরের বন্ধু। বর্তমানে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রেজা। বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির সহায়তায় রেজার পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা প্রায় ১০ হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হাওরের ক্ষতির কথা তুলে ধরে পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় তরুণদের উদ্বুদ্ধ করছেন রেজা। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সব উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে গড়ে তুলেছেন গ্রিন ক্লাব। পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা এসব গ্রিন ক্লাবের মাধ্যমে নানা কর্মসূচি পালন করছেন।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখায় রেজার পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা ২০১৮ সালে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। আগামীর পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে কাসমির রেজা বলেন, 'দেশের আর দশটি অঞ্চল থেকে নানা দিক দিয়ে পিছিয়ে হাওরাঞ্চল। কিন্তু এখানে রয়েছে অনেক সম্পদ ও সম্ভাবনা। এসবকে কাজে লাগিয়ে হাওরের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে আজীবন কাজ করে যেতে চাই।' া