একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর নেতা কে এম আমিনুল হক ওরফে রজব আলীকে (৬৯) গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর কলাবাগান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

আজ রোববার কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, আমিনুল হক ছিলেন আত্মস্বীকৃত আলবদর। ‘আমি আলবদর বলছি’ নামে একটি বই তিনি প্রকাশ করেছিলেন। ওই বইয়ে তার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের আত্মস্বীকৃতি রয়েছে বলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর আমিনুল হকের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়। ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তদন্ত সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ২০১৬ সালের ১৮ মে ট্রাইব্যুনাল আমিনুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মানবতাবিরোধী অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে রায় দেন। এর আগে থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, স্বঘোষিত এই আলবদর নেতার বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের আলীনগরে। তিনি মৃত কে এইচ এম এ গনির ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে অষ্টগ্রাম থানা এলাকায় গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালে।

আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুসারে, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার আলীনগর গ্রামের রজব আলী ১৯৭০ সালে ভৈরব হাজী হাসমত আলী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ইসলামী ছাত্র সংঘের কলেজ শাখার সভাপতি হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভৈরবে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তিনি অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে এলাকায় ফিরে আলবদর বাহিনী গঠন করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আটক হয়েছিলেন রজব। ১৯৭২ সালে তার বিরুদ্ধে দালাল আইনে তিনটি মামলা হয়েছিল, যাতে তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। কিন্তু দালাল আইন বাতিলের সুযোগে ১৯৮১ সালে রজব ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন। পরে ‘আমি আলবদর বলছি’ নামে একটি বই তিনি প্রকাশ করেন।