সেনা কল্যাণ সংস্থার সুবর্ণজয়ন্তী ও ৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী রোববার ঢাকার মহাখালীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সাড়ম্বরে উদযাপন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে (এসকেএস টাওয়ার) পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় তিনি এসকেএস টাওয়ারের দশম তলায় 'বঙ্গবন্ধু কর্ণার' উদ্বোধন করেন।

এ ছাড়া সেনা কল্যাণ সংস্থা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, সেনা কল্যাণ সংস্থায় কর্তব্যরত অবস্থায় আহত/নিহত সদস্যদের পরিবারকে উপহার সামগ্রী এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হয়। পরে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭২ সালের ১ জুলাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় স্বাধীনতা পূর্ববর্তীকালে গঠিত 'ফৌজি ফাউন্ডেশন' আপামর জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণের ব্রত নিয়ে সেনা কল্যাণ সংস্থা হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করে। সেনাপ্রধান ও চেয়ারম্যান বোর্ড অব ট্রাস্টির বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। কল্যাণমুখী এই প্রতিষ্ঠান বিগত বছরগুলোতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রায় ২০ লাখ অবসরপ্রাপ্ত সদস্যের মধ্যে ৪৫৬ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি সরকারকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি কর দিয়েছে। ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার ইউনিট প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে এই সংস্থা।

এ ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০টি মেডিকেল ডিসপেনসারি এবং ঢাকার ডিওএইচএসে চারটি জরুরি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। করোনা মোকাবেলার অংশ হিসেবে এই সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। দেশব্যাপী করোনা ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনা কল্যাণ সংস্থা খাবার ও বিপুল পরিমান ত্রাণ সামগ্রী দেশের অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করেছে। আইএসপিআর।