চলে গেলেন পিটার ব্রুক। গতকাল রোববার ফ্রান্সের প্যারিসে তাঁর প্রকাশকের পক্ষ থেকে বিখ্যাত এই ইংরেজ নাটক ও সিনেমা পরিচালকের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭।

ব্রুকের জন্ম ১৯২৫ সালে। ১৯৫০-এর দশকের গোড়া থেকে নাটকের কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯৭০-এর দশক থেকে ফ্রান্স হয়ে দাঁড়ায় তাঁর প্রধান কর্মক্ষেত্র। মূলত নাটক তাঁর মাধ্যম হলেও চলচ্চিত্র পরিচালনাতে তিনি ছিলেন অনায়াস। খবর গার্ডিয়ানের।

ব্রিটেনের রয়্যাল শেকসপিয়র কোম্পানির সঙ্গে তিনি মঞ্চায়িত করেছেন 'রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট', 'মেজার ফর মেজার', 'দ্য উইন্টারস টেল' বা 'মারা/সাদ'-এর মতো নাটক। শেকসপিয়র ছাড়াও 'ঈদিপাস'-এর মতো ধ্রুপদি নাটক পরিচালনার জন্যও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। 'দ্য বেগার্স অপেরা', 'কিং লিয়র', 'দ্য ট্র্যাজেডি অব হ্যামলেট' তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।

ভারতের সঙ্গে ব্রুকের ছিল আত্মিক সম্পর্ক। ১৯৮৫ সালে মহাকাব্য 'মহাভারত'-এর একটানা ৯ ঘণ্টাব্যাপী মঞ্চ রূপান্তরণকে তিনি সম্ভব করে দেখান। পরে ১৯৮৯ সালে সেটিকে চলচ্চিত্রে পরিণতি দেন ব্রুক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিনেতারা এই মহাযজ্ঞে শামিল হয়েছিলেন।

থিয়েটারকে প্রথাসিদ্ধ চেহারা থেকে বের করে এনে ব্রুক কখনও পরিত্যক্ত বাড়ি বা কারখানার শেডকে ব্যবহার করতেন তাঁর প্রযোজনায়। 'মহাভারত' পরিচালনার আগে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়ে তিনি তুলে এনেছিলেন লোকশিল্পের অগণিত আঙ্গিক। যার ফলে তাঁর 'মহাভারত' হয়ে দাঁড়ায় এমন এক প্রযোজনা, যা আগে কখনও ভাবা যায়নি।

দীর্ঘ জীবনে বহু সম্মান পেয়েছেন ব্রুক, যার মধ্যে রয়েছে নাট্যজগতের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার টনি অ্যাওয়ার্ড, এমি অ্যাওয়ার্ড, ইবসেন পুরস্কার প্রভৃতি। ১৯৬৫ সালেই ব্রুককে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের 'কমান্ডার অব দ্য অর্ডার' সম্মান প্রদান করা হয়। ২০২১ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত করে।

বিষয় : পিটার ব্রুক থিয়েটার ব্যক্তিত্ব

মন্তব্য করুন