গোপালগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী খোন্দকার এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম সহিদুল মোল্লা (৪২)। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মোচড়া গ্রামের রাঙ্গা মোল্লার ছেলে। তিনি পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকে সহিদুল মোল্লা তার স্ত্রী ও একই গ্রামের মো. ছমির গাজীর মেয়ের লাভলী বেগমকে যৌতুক দাবিতে নির্যাতন করে আসছিলেন ।২০১৪ সালের জুলাই মাসে আবারও তিনি স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ দিলে লাভলী বেগম ঢাকায় চলে যান ও গার্মেন্টসে চাকরি নেন। পরে সহিদুল লাভলীর পরিবারের হাতে পায়ে ধরে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর কিছু দিন পর সহিদুল আবার লাভলীর কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।কিন্তু  লাভলী যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সহিদুল ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বলে লাভলীকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে বাড়ির পাশে ফাঁকা মাঠের মধ্যে নিয়ে তাকে গলায় মাফলার জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন । পরের দিন ২১ নভেম্বর সকালে পুলিশ লাভলীর মরদেহ উদ্ধার করে। ওই দিনই নিহতের বাবা ছমির গাজী জামাতা সহিদুল মোল্লাসহ ৭ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। পরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও  গোপালগঞ্জর সদর থানার এসআই তারেকুল ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সহিদুলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি  ও স্বাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে শহিদুলকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

সরকার পক্ষের স্পেশাল পিপি রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ বলেন, বাদী ন্যায্য বিচার পেয়েছেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের অ্যাডভোকেট পিযুষ কুমার চন্দ্র বলেন, এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।