নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে হেনস্তার ঘটনায় স্থানীয় মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোরসালিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি অধ্যক্ষ হেনস্তা মামলার বাদী। 

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়। তিনি বলেন, যেহেতু মোরসালিন মামলার বাদী, সেহেতু তাকে যেকোনো সময়ে লাগতে পারে। এজন্য তাকে নড়াইল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, অধ্যক্ষ হেনস্তার মামলায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক নূর নবী (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সদরের কলোড়া ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের মৃত ফয়েজ চৌকিদারের ছেলে। 

পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মনিহার সিনেমা হলের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

মোটরসাইকেলের চালক নূর নবী

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি (চলতি দায়িত্ব) মো. মাহামুদুর রহমান জানান, এ মামলায় এ পর্যন্ত নূর নবীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। ৪ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত এ রিমান্ড কার্যকর হবে। 

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে লেখেন, প্রণাম নিও বস ‘নূপুর শর্মা’ জয় শ্রীরাম। এ পোস্ট দেয়ার পর গত ১৮ জুন সকালে কলেজে আসে রাহুল। এরপর তার বন্ধুরা পোস্টটি মুছে ফেলতে বললেও সে পোস্ট মোছেনি।

শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান। এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকদের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। ঘটনার সময় অন্তত ১০ জন ছাত্র-জনতা আহত হন।

এদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনার দিন (১৮ জুন) বিকেলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়কে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানান।