পূর্ব ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চল দখলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল রাশিয়া। দীর্ঘ সাড়ে চারমাসের প্রচেষ্টার পর গুরুত্বপূর্ণ লুহানস্ক প্রদেশ দখলে নিতে পেরেছে মস্কো। এবার ওই অঞ্চলের দোনেৎস্ক প্রদেশ দখলে ঝাঁপিয়ে পড়বে রুশ সেনারা।

সোমবার এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের গভর্নর সের্হি হাইদাই। খবর রয়টার্সের।

লুহানস্কের গভর্নর বলেন, লুহানস্কের সর্বশেষ শহর দখলে নেওয়ার পর এবার ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের সবটুকু দখলে নেওয়ার চেষ্টা করবে রুশ সেনারা।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর রাশিয়া দোনবাস অঞ্চলকে নিজেদের হামলার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেয়। দোনবাস গঠিত লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চল মিলে। যেখানে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়ছে ২০১৪ সাল থেকে।

রাশিয়া বলছে, লিসিচানস্ক থেকে ইউক্রেন সেনা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হওয়ার পর পুরো লুহানস্ক অঞ্চলের দখল নেওয়া হয়েছে।

এর পর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুহানস্কের গভর্নর সের্হি হাইদাই বলেন, সামরিক দিক বিবেচনায় যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করা খুবই বাজে এক ধরনের কাজ। আমাদের এ যুদ্ধে জয় প্রয়োজন, লিসিচানস্কের যুদ্ধে নয়।

‘এটি খুবই পীড়াদায়ক, কিন্তু এর অর্থ যুদ্ধে পরাজয় নয়’, যোগ করে হাইদাই।

তিনি বলেন, লিসিচানস্ক থেকে প্রত্যাহারকে ‘কেন্দ্রীভূত’ করা হয়েছে। যা ইঙ্গিত করে যে, এটি পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল ছিল। কিন্তু ইউক্রেনীয় বাহিনী ঘেরাও হওয়ার ঝুঁকি নিয়েছিল।

লুহানস্কের গভর্নর বলেন, আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, পূর্ব ইউক্রেনের পুরো দোনবাস দখলে রুশ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্লোভিয়ানস্ক এবং বাখমুত হামলার শিকার হবে।

‘এখনও তাদের জন্য (রাশিয়ার বাহিনী) প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দোনেৎস্ক অঞ্চল। স্লোভিয়ানস্ক ও বাখমুত হামলার শিকার হতে পারে—বাখমুতে ইতোমধ্যে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ শুরু হয়ে গেছে।

লিসিচানস্কের পশ্চিমে দোনেৎস্ক অঞ্চলে স্লোভিয়ানস্ক শহরের অবস্থান। শহরটির মেয়র ভাদিম লায়খ রোববার ফেসবুকে লিখেছেন, ভয়াবহ গোলার আঘাতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একটি দশ বছরের শিশুও রয়েছে।

এদিকে সেভেরোদোনেৎস্ক দখলের এক সপ্তাহেরও কম সময়ে লিসিচানস্ক দখলে নেওয়ার মাধ্যমে লুহানস্ক অঞ্চল ‘মুক্ত’ করার ঘটনাকে যুদ্ধের বড় ধরনের লক্ষ্য অর্জন বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন।

মস্কো বলছে, দখল করা এ অঞ্চল লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যে অঞ্চলকে যুদ্ধের আগেই স্বাধীন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তবে হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার রাত্রিকালীন ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, পশ্চিমা দূর-পাল্লার অস্ত্রের সহায়তায় হারানো ভূমি পুনরুদ্ধার করা হবে।

তিনি পশ্চিমা আধুনিক অস্ত্রের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ধন্যবাদ জানান। এর মধ্যে রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এইচআইএমএআর এস রকেট লঞ্চার।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, বিষয় হলো— আমরা আমাদের সৈন্যদের জীবন রক্ষা করি, আমাদের জনগণও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা দেয়ালগুলো আবার তৈরি করব, আমরা আমাদের ভূমি পুনরায় জয় করব এবং সবকিছুর ওপরে মানুষদের রক্ষা করতে হবে।