যাত্রার আগে বিকল হওয়া বগি রেখে কমলাপুর স্টেশন থেকে যাত্রা করেছে পঞ্চগড়গামী 'একতা এক্সপ্রেস'। শোভন চেয়ার শ্রেণির ‘ট’ বগিটিতে ১০৪টি আসন রয়েছে, যাত্রী ছিলেন শতাধিক।

রেলের ভাষ্য, কমলাপুরে বিকল্প বগি না থাকায় যাত্রীদের রেখে যেতে হয়েছে। তাদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু এই যাত্রীরা ঈদের আগে কীভাবে বাড়ি ফিরবেন, সে জবাব নেই রেলওয়ের কাছে।

সোমবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটের 'একতা এক্সপ্রেস' প্রায় ৫০ মিনিট দেরিতে কমলাপুর থেকে যাত্রা করে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের সকাল ৯টায় বগি বিকল হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। তবে যাত্রীরা বলছেন, তাদের কেউ কিছু যায়নি। ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পর জানতে পারেন, তাদের রেখে ট্রেন চলে গেছে।

রেলের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোহাম্মদ শফিকুর রহমান সমকালকে বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় কারিগরি ত্রুটির কারণে বগিটি সাময়িকভাবে চলাচলের অযোগ্য ঘোষণা করেছে মেকানিক্যাল বিভাগ। যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

শফিকুর রহমান জানান, পঞ্চগড়ে বিকল্প বগি যুক্ত হবে এবং তা নিয়ে ঢাকায় ফিরবে। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে যে একতা এক্সপ্রেস ছাড়বে, তাতেও 'ট' বগি থাকবে।

কিন্তু সোমবার যেতে না পারা যাত্রীদের কী হবে, এ প্রশ্নে ডিআরএম সমকালকে বলেন, তাদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

যারা টাকা ফেরত না নিয়ে ট্রেনে বাড়ি ফিরতে চান, তাদের কী হবে, এ প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, আসন খালি সাপেক্ষে তাদের নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। তার দাবি, কারিগরি ত্রুটির কারণে বগি রেখে যাত্রার ঘটনা নতুন নয়।

‘ট’ বগির যাত্রী নাজমুল হক জানান, স্টেশনে এসে আসন নিশ্চিত করে তিনি ট্রেনে উঠেন। এরপর হঠাৎ জানতে পারেন, তাদের বগি রেখেই একতা এক্সপ্রেস চলে গেছে। নাজমুল হক বলেন, টাকা ফেরত নয়, ট্রেনে বাড়ি যেতে চাই।

কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, বগির গিয়ারে ত্রুটি ছিল। যাত্রীদের সকাল ৯টায় বগি বিকল হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। আমরা বিকল্প বগির ব্যবস্থা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। অতিরিক্ত বগি না থাকায় প্রতিস্থাপন করা যায়নি। তবে কী কারণে বগির গিয়ারে সমস্যা হয়েছে, তা জানেন না তিনি। 

'একতা এক্সপ্রেস' কমলাপুর স্টেশন থেকে দিনাজপুর হয়ে পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করে।