নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে হেনস্তার মামলায় নূর নবীকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের মণিহার সিনেমা হলের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নূর নবী মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতেন। তিনি নড়াইল সদরের কলোড়া ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের মৃত ফয়েজ চৌকিদারের ছেলে।

এদিকে, সদর থানার ওসি শওকত কবীরের পর স্থানীয় মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও হেনস্তার ঘটনায় করা মামলার বাদী এসআই মোরসালিনকে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়। তিনি বলেন, মামলার তদন্তকাজে মোরসালিনকে যে কোনো সময় লাগতে পারে ভেবে তাঁকে নড়াইল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নূর নবীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সদর থানার ওসি (চলতি দায়িত্ব) মাহামুদুর রহমান বলেন, অধ্যক্ষকে হেনস্তার সময় নূর নবী খুব তৎপর ছিলেন। সোমবার বিকেলে সদর আমলি আদালতে হাজির করে তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। তবে এখনও রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য হয়নি।

অধ্যক্ষকে হেনস্তার ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচ তরুণকে গ্রেপ্তার করা হলো। আগের চারজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

গত ১৮ জুন ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-কে অবমাননার এক ঘটনায় অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে কলেজে জুতার মালা গলায় পরিয়ে পুলিশের সামনে লাঞ্ছিত করা হয়।

রিটের শুনানি আজ

সমকাল প্রতিবেদক জানান, অধ্যক্ষকে হেনস্তার ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে করা রিটের শুনানি আজ (মঙ্গলবার) ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি ভীস্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই দিন ধার্য করেন।

আদালতে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পূর্ণিমা জাহান। তিনিই ৩০ জুন হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, শিক্ষাসচিবসহ সংশ্নিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।