রফিক আহমদ গত শনিবার আসেন কমলাপুর রেলস্টেশনে। যাবেন বগুড়ায়। ৭ জুলাইয়ের রংপুর বা লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি টিকিট চাই তাঁর। সে দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় লাইনে দাঁড়ানোর সময় তাঁর সিরিয়াল ছিল ৬৪। রোববার সিরিয়ালের প্রথম ৪৯ জন টিকিট পান। টিকিট না পেয়ে আবারও তিনি লাইনে দাঁড়ান। এবার তাঁর সিরিয়াল ২২। ৩৭ ঘণ্টা অপেক্ষার পর গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ৮ জুলাইয়ের রংপুর এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার শ্রেণির তিনটি টিকিট তিনি পেয়েছেন।

সোমবার বিকেলে টেলিফোনে কথা হয় রফিকের সঙ্গে। জানালেন, তিনি শোভন চেয়ারের টিকিট চেয়েছিলেন, পেয়েছেনও। কিন্তু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বগি, কেবিনের আসনে টিকিট পেয়েছেন সিরিয়ালে থাকা প্রথম ১৫ জন। রফিকের প্রশ্ন, সিরিয়ালের প্রথম ১৫ জনের মধ্যে বড়জোর সাত-আটজন এসি, কেবিনের আসনের টিকিট নিয়েছেন। সবাই যদি চারটি করেও টিকিট নিয়ে থাকেন, তাহলে ২৮ থেকে ৩২টি এসি, কেবিনের আসনের টিকিট যাওয়ার কথা। একটি ট্রেনে এসি, কেবিনের টিকিট তো এত কম নয়! বাকি টিকিট যায় কোথায়? পাচ্ছে কারা?

এ রহস্যের সমাধান কমলাপুর ঘুরে পাওয়া যায়নি। যাত্রীরা লাইন ধরে না পেলেও দেখা গেছে, মন্ত্রী, এমপি, আমলাদের তদবির নিয়ে আসা ব্যক্তিরা কমলাপুর স্টেশনের সার্ভার রুমের দরজা থেকে এসির টিকিট পাচ্ছেন। বিকেল ৩টার দিকে দেখা যায়, এক নারী বসে আছেন কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজারের কক্ষে। কিছুক্ষণ পর রেলের এক কর্মী এসে তাঁর কাছে জানতে চান, 'আপনাকে পাঠিয়েছেন মন্ত্রী মহোদয়? আমার সঙ্গে আসেন।'

ওই নারী সেই কর্মীর পিছু পিছু সার্ভার কক্ষের সামনে যান। রেলের কর্মী ভেতর থেকে ফিরে এসে বলেন, দুই টিকিটের দাম ২ হাজার ১০৬ টাকা। নারী ব্যাগ খুলে টাকা দেন। ১০ মিনিট পর ভেতর থেকে টিকিট নিয়ে আসেন সেই কর্মী। তখন এই প্রতিবেদক তাঁর নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি দ্রুত হেঁটে চলে যান। পরে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ারের বক্তব্যও জানা যায়নি। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাঁকে তাঁর কক্ষে পাওয়া যায়নি।

গতকাল দেওয়া হয় ৮ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট। আজ দেওয়া হবে ৯ জুলাইয়ের টিকিট।
এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে কালোবাজারে টিকিট বিক্রির সময় গতকাল রাতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বিষয় : এসি আসন ট্রেনের এসি কেবিন

মন্তব্য করুন