ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই করছেন। নিজের মন্ত্রিসভার শীর্ষ দুই মন্ত্রী তার নেতৃত্বকে আক্রমণ ও পদত্যাগ করার পর তিনি এখন রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকটে পড়েছেন। এ ছাড়া বুধবার পার্লামেন্টের নিয়মিত অধিবেশনে এমপির প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে চাপে আছেন তিনি। 

এর আগে কনিষ্ট কয়েক মন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং সহকর্মীরা বরিসকে আক্রমণ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিত জাভিদ ১০ মিনিটের ব্যবধানে পদত্যাগ করেন। সমালোচকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদায় ঘণ্টা বেজেছে। আর লেবার পার্টি বলছে, বরিস যে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা দুর্নীতিগ্রস্ত। বুধবার এই খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইন।   

এদিকে ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র বলেছে, জনসন তার কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এবং জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।  

দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের পর ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় রদবদল এনেছেন বররিস জনসন। নাদিম জাহাবীকে অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ স্টিভ বার্কলেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেছেন। 

যদিও বুধবার হাউজ অব কমন্সের ‘প্রাইম মিনিস্টার কোয়েশন্স’ সেশনে এমপিদেরও তোপের মুখে পড়বেন তিনি। দেশটির সাংবিধানিক রীতিতে প্রতি বুধবার বিকেলে একটি অধিবেশন বসে যেখানে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ ছাড়াও এদিন তিনি কয়েকজন এমপিদের সমন্বয়ে গঠিত লিয়াজোঁ কমিটিকে প্রমাণ দেবেন। এই কমিটি সরকারের নীতি এবং সিদ্ধান্ত যাচাই-বাছাই করে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরিস জনসনের দল থেকে পদত্যাগ করা ভাইস চেয়ারম্যান বিম আফোলামি একটি টেলিভিশনের লাইভে বলেছিলেন, পার্টিগেট কেলেঙ্কারির পর পুনরায় আস্থা অর্জনের খাতিরে সাম্প্রতিক আস্থা ভোটে তিনি জনসনকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু বিবিসি রেডিও ফোরের বুধবারের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, করোনার বিধি লঙ্ঘন করে পার্টি আয়োজন করে সমালোচিত হয়েছিলেন বরিস জনসন। সেটি পার্টিগেট কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিতি পায়। এজন্য তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তবে তা নিয়ে পদত্যাগের চাপে ছিলেন তিনি। এরপর পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবেও উতরে গিয়েছিলেন। 

সম্প্রতি নতুন করে কেলেঙ্কারিতে জড়ান তিনি। রক্ষণশীল দলের এমপি ক্রিস পিঞ্চারের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন তিনি। এরপরও তাঁকে সরকারের ডেপুটি চিফ হুইপ করেন। 

এ ঘটনা প্রকাশ্যে এলে আবারও ক্ষমা চান বরিস। তবে নিজ দল থেকেই এবার তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে। এ ছাড়া সরকার পরিচালনায় বরিস জনসনের সক্ষমতা নিয়ে নিজ দল ও দলের বাইরেও ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।