শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকম কর্মচারী ইউনিয়নের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁরা হলেন ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান। বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গত ৪ জুলাই ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান মিরপুর থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। তদন্তে নেমে ডিবি জানতে পারে, গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি শ্রমিক-কর্মচারীদের স্থায়ী না করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ক্রমাগত নবায়ন করে। শ্রম আইন অনুযায়ী বার্ষিক লভ্যাংশের ৫ শতাংশ অর্থ ৮০ :১০ :১০ অনুপাতে ওয়ার্কাস প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড, শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের আইনানুগ লভ্যাংশ দেওয়া থেকে বিরত থাকে। বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কারণে ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে ৯৯ শ্রমিককে ছাঁটাই করে। এর পর বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে শ্রম আদালত এবং হাইকোর্টে ১৯০টি মামলা ও রিট পিটিশন করেন। তড়িঘড়ি করে অনেকটা গোপনে এসব মামলা প্রত্যাহার, শ্রমিকদের অর্থ প্রদান, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

হারুন অর রশীদ বলেন 'বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হবে। ক্ষমতার পট পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তখন শ্রমিকদের মামলা কোনো কাজে আসবে না; তাঁরা ক্ষতিপূরণও পাবেন না। উল্টো তাঁদের চাকরি হারিয়ে কারাভোগসহ নির্যাতনের মুখে পড়তে হবে'- গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষের ছড়ানো এমন গুজবে আতঙ্কিত হয়ে তড়িঘড়ি করে গোপনে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন শ্রমিকরা।

তিনি বলেন, গ্রামীণ টেলিকম এবং গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী গত ১০ মে ঢাকা ব্যাংক গুলশান শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ২০১০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোম্পানির মোট লভ্যাংশের ৫ শতাংশ টাকা হারে কোম্পানি থেকে এই অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়। অ্যাকাউন্ট থেকে শ্রমিকদের পাওনা এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম কর ছাড়া অন্য কোনো অর্থ ছাড়ের সুযোগ নেই। কিন্তু বিধি বহির্ভূতভাবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, গ্রেপ্তার দু'জনসহ ইউনিয়নের কয়েক নেতার যোগসাজশে ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের অ্যাকাউন্টে নেওয়া হয়। গ্রেপ্তার দুই নেতা এবং সহসভাপতি মাইনুল হাসান ইউনিয়নের অ্যাকাউন্ট থেকে মিরপুরে তাঁদের দুটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে তিন কোটি করে মোট ৯ কোটি টাকা স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেছেন।