বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গত দুই দিনে তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রীসহ আরও সাত মন্ত্রী অনাস্থা প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন। বিরোধীরা এ সুযোগে তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো করেছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর পদে টিকে থাকতে জোর লড়াই করতে হচ্ছে জনসনকে। খবর বিবিসি, রয়টার্সের।

গত মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। পদত্যাগপত্রে তারা বরিস জনসনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ দুই মন্ত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন আরও কয়েকজন। গতকাল বুধবার পদত্যাগ করেন জনসন সরকারের আরও সাত মন্ত্রী। এরা হলেন- শিশু ও পরিবারবিষয়ক মন্ত্রী উইল কুইন্স, সলিসিটর জেনারেল এলেপ চাক, কোষাগারবিষয়ক মন্ত্রী জন গ্লেন, বিচারমন্ত্রী ভিক্টরিয়া আকিনস, শিক্ষামন্ত্রী রবিন ওয়াকার, পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামবিষয়ক মন্ত্রী জো চার্চিল এবং আবাসনমন্ত্রী স্টুয়ার্ট এন্ড্রু। রবিন ওয়াকার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, জনসনের নেতৃত্বে তাঁর আস্থা নেই। উইল কুইন্স লিখেছেন, 'আমার পদত্যাগ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।'

কেবল মন্ত্রীরাই নন, পদত্যাগের এ তালিকায় যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির কয়েকজন নেতা ও আমলা রয়েছেন। পদত্যাগ করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান বিম অ্যাফোলামি ও সলিসিটর জেনারেল অ্যালেপ চক। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জনসনের আরও চার সহযোগীও পদত্যাগ করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা জনসন পদে টিকে থাকতে লড়ছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন না। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের মাধ্যমে সরকার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি নাদিম জাহাবির নাম ঘোষণা করেছেন। নাদিম তাঁর সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আর শিক্ষামন্ত্রীর পদে নিয়োগ পেয়েছেন জনসনের অনুগত হিসেবে পরিচিত মিশেল ডোনেলান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে সাজিদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন স্টিভ বার্কলে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

এদিকে পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন বিরোধীরা। লেবার পার্টি বলছে, জনসন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লেবার নেতা স্যার কেইর স্টারমার জানান, তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। জনসনের 'শেষ' দেখতে পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ও সাবেক চিফ হুইপ অ্যান্ডু মিচেল।

এর আগে জনসনের কঠোর সমালোচনা করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। বিতর্কিত ক্রিস পিনচারকে চিফ হুইপ পদে নিয়োগ দিতে বরিসের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তাঁরা পদত্যাগ করেছেন। জনসনের উদ্দেশে জাভিদ লিখেছেন, 'আপনি আমার আস্থা হারিয়েছেন।' গতকাল পার্লামেন্টে পদত্যাগ ভাষণ দেন তিনি। এ সময় তিনি 'অনেক হয়েছে' বলে মন্তব্য করেন। জনসনের সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কথাও পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ঋষি সুনাক। সূত্র জানায়, জাভিদের সংসদীয় একান্ত সচিব সাকিব ভাট্টিও পদত্যাগ করেছেন।

পার্টিগেট ক্যালেঙ্কারি নিয়ে আগে থেকেই চাপে ছিলেন জনসন। করোনা নিষেধাজ্ঞার সময় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টি করেছেন- এমন অভিযোগ ওঠার পর নিজ দলের ভেতরেই তাঁর সমালোচনা হয়। এজন্য পার্লামেন্টে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন জনসন। তবে এবার কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগ তাঁর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। হয়তো শিগগির পদত্যাগে বাধ্য হতে পারেন জনসন।