হিরো শেয়ার ব্যবসায় আছেন ২০০৬ সাল থেকে। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দিয়ে কারসাজি তাঁর হাতেখড়ি। তবে আজকের শেয়ারবাজারের 'হিরো' হয়েছেন মূলত ২০২০ সালের জুলাই থেকে একের পর এক বীমা কোম্পানির দর আকাশচুম্বী করে।

ভয়াবহ দরপতনের ওই সময় প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর মাত্র দুই সপ্তাহে ২০ থেকে ৩৭ টাকায় তুলেছিলেন। এর ছয় মাস পর ওই শেয়ারই এক মাসের মধ্যে ৪০ থেকে ১০০ টাকা পার করান। এখন থেকে এক বছর আগে আগারগাঁওয়ের সমবায় অধিদপ্তরের নিজ কার্যালয়ে বসে সে গল্পই এ প্রতিবেদকের সঙ্গে করেন তিনি।

তবে ২০১৯ সালের দরপতনে অন্য সবার মতো তাঁরও দিশেহারা অবস্থা হয়। ক্রমাগত দরপতনে মার্জিন ঋণ নিয়ে কেনা শেয়ারদর হারাতে থাকলে ঋণ সমন্বয় করতে গিয়ে বাসাবোতে নিজের পরিচালিত একটি স্কুল বিক্রি করেন। কথা প্রসঙ্গে গত ২৯ জুন হিরোই এ কথা প্রতিবেদককে জানান।

সমকালের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে হিরো কারসাজি শুরু করেছিলেন ইবিএল সিকিউরিটিজ থেকে নিজের (বিও নং ১২০১৯৫০০৬২১৬৪৫৩৫), নিজের সমিতি ডিআইটি কো-অপারেটিভ (বিও নং ১২০১৯৫০০৬৫৭৫৭৮১১) এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মালিকানাধীন মার্চেন্ট ব্যাংক এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টে স্ত্রী সাদিয়ার (বিও নং ১৬০৪৫৩০০৬৬৩৮৫৫০৪) অ্যাকাউন্ট থেকে।

শেয়ার কেনার টাকা কোথা থেকে পেয়েছিলেন- এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আগেই শেয়ার ব্যবসায় কিছু লগ্নি ছিল। সেগুলোর সঙ্গে ফ্ল্যাট ক্রয়ে বায়নার ২৫ লাখ টাকা, স্ত্রীর গহনা বিক্রির টাকা, প্রবাসী চাচাতো ভাইয়ের এফডিআর ভেঙে ৫০ লাখ টাকা, আরও কয়েকজন ভাই-বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে মোট সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার কেনা শুরু।

ওই আত্মবিশ্বাসে ভর করে হিরো গত দুই বছরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৫০ কোম্পানির মধ্যে ৬৮টির শেয়ার কিনেছেন। শুধু সমকালের অনুসন্ধানেই এর মধ্যে ৩২ শেয়ারে বড় ধরনের কারসাজির প্রমাণ মিলেছে।

কারসাজি করেই ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ১০৬ কোটি টাকা রিয়েলাইজড গেইন করেছেন। তার পরও গত অক্টোবর শেষে তাঁর নিজেরগুলোসহ স্ত্রী, বোন, বাবা ও ডিআইটি কো-অপারেটিভের নামে খোলা বেশ কিছু অ্যাকাউন্টে ৪৩৬ কোটি টাকা থাকার তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে বাজারমূল্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ৩৩ কোটি টাকা, ডেল্টা লাইফের সাড়ে ৪৭ কোটি, ফরচুন শুজের ১৩৪ কোটি, জেনেক্স ইনফোসিসের ৩৮ কোটি, আইপিডিসির সাড়ে ৬৮ কোটি এবং সোনালি পেপারের সাড়ে ৯২ কোটি টাকার শেয়ার ছিল।