রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা চলছে তার আচ পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বাদ যায়নি বাংলাদেশও। এমন অবস্থায় আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে তারা এ কথা জানান । বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত বিষয়ে তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, জ্বালানি তেলের লোকসান কমাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় লোডশেডিং থাকবে তা আগে থেকেই গ্রাহকদের জানিয়ে দেওয়া হবে। দিনে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং থাকবে।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘পৃথিবীতে একটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ইউক্রেনের যে যুদ্ধ, সে যুদ্ধ কিন্তু আমাদেরও যুদ্ধ। ওই যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে আমাদের ওপর।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের অর্থের অভাব নেই, তারাও কিন্তু লোডশেডিং করছে। যুক্তরাজ্যে হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় হচ্ছে। উৎপাদনকে কমিয়ে খরচ যাতে সহনশীল হয়, সে পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। ডিজেলের বিদ্যুৎ উৎপাদন আপাতত স্থগিত করলাম, তাতে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। মনে রাখতে হবে, ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।’

তৌফিক–ই–এলাহী চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি হবে। এতে দিনে এক থেকে দেড় ঘণ্টা এবং কোনো কোনো জায়গায় দুই ঘণ্টাও লোডশেডিং হতে পারে। কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং পৃথিবীর এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক-দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনা যায় কিনা, সে বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি।