সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গত বুধবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত প্রথম দফায় এক ঘণ্টা ৫ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না। দ্বিতীয় দফায় সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে বিদ্যুৎ যায়, আসে ৭টা ১৮মিনিটে। রাত ৯টা ৫৩ মিনিটে তৃতীয় দফায় লোডশেডিং শুরু হয়ে ১০টা ৩ মিনিট পর্যন্ত চলে। ১১টা ৪০ মিনিটে চতুর্থবারের মতো বিদ্যুৎ যায়, আসে ১২টা ১৯ মিনিটে। দিন-রাত মিলে ওই এলাকায় বুধবার চারবারে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট লোডশেডিং হয়। আবার পঞ্চগড়ে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। যদিও সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, এলাকাভিত্তিক সূচি ধরে ২৪ ঘণ্টার এক ঘণ্টা লোডশেডিং হবে। তবে তা ঘোষণাতেই রয়ে গেছে। দেশের অধিকাংশ এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে-আসছে। দেশের কোথাও কোথাও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ৮-১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। খোদ ঢাকাতেই সূচি পুরোপুরি মানা যাচ্ছে না। রাজধানীর অনেক এলাকায় দুই তিন দফায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

সংবাদকর্মী ইলিয়াস কমল তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, 'আম্মা ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের এখানেও কি আমাদের (ময়মনসিংহের ফুলপুর) মতো এত কারেন্ট যায়? ... এখন এই গরমের মধ্যে আম্মার মতো বুড়ো মানুষের সমস্যা হচ্ছে, তিনি আর কুলিয়ে উঠতে পারতেছেন না। বলতেছেন, একটা চার্জার ফ্যান আছে, কারেন্ট এত কম সময় থাকতেছে যে, ওই ফ্যানটা চার্জ হওয়ারও সময় পাইতেছে না। ফলে কারেন্ট চলে গেলে যে একটু গা ঠান্ডা রাখব, তারও উপায় নাই। জিজ্ঞেস করলাম কতক্ষণ থাকে না? বলেন, থাকে না কতক্ষণ এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না। কিন্তু থাকে কতক্ষণ, তা বলতে পারব। আজকে সারাদিনে চার ঘণ্টা পাইছি কিনা নিশ্চিত না!'

চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম বলে সূচি ধরে লোডশেডিং করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা। ঢাকাসহ দু-একটি বিভাগীয় আর জেলা শহরে লোডশেডিংয়ের সূচি করা হলেও দেশের অধিকাংশ এলাকার জন্য তেমন শিডিউল নেই, থাকলেও মানার বালাই নেই। যদিও বুধবার বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে এসএমএসের মাধ্যমে লোডশেডিং সূচি জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দেশের সবচেয়ে বড় বিতরণ প্রতিষ্ঠান পল্লী বিতরণ কোম্পানি তার আওতাধীন সমিতিগুলোকে চিঠি দিয়ে গ্রাহককে লোডশেডিংয়ের জন্য এসএমএসের মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। এসএমএসে 'এক ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে' এই বাক্য লেখার জন্য বলা হচ্ছে। যদিও খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

একাধিক বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা যে পরিমাণ ঘাটতি ধরে সূচি তৈরি করেন, বাস্তবে বিদ্যুৎ পান তার চেয়েও কম। ফলে সূচি ঠিক থাকে না। একাধিকবার লোডশেডিং করতে হয়।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তাড়াশ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ব্যবস্থাপক নিরাপদ দাশ জানান, দিন ও রাতের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার বিপরীতে তাড়াশে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন, পাওয়া যায় ৭ মেগাওয়াট। তাই বেশি লোডশেডিং করতে হয়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য মতে, গতকাল সারাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১২ হাজার ৫৭০ মেগাওয়াট। গতকাল লোডশেডিং হওয়ার কথা ১ হাজার ৩৮৫ মেগাওয়াট। বাস্তবে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল আড়াই থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট। ফলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে ভুগতে হয়েছে পুরো দেশকে।