রাজশাহীতে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক কলেজ অধ্যক্ষকে মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে তা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তদন্ত করছে। মাউশির কলেজ ও প্রশাসন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ড. কামাল হোসেনকে এ বিষয়ে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখার উপপরিচালক (কলেজ-২) এনামুল হক হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন কামাল হোসেন। এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে এ ঘটনা তদন্তে গত ১২ জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ কমিটি টানা কয়েকদিন রাজশাহীতে থেকে তদন্তকাজ শেষ করেছে। ঘটনা নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে কথা বলেছে সংশ্লিষ্ট ৫০ জনেরও বেশি মানুষের সঙ্গে।

গত ৭ জুলাই এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী তাঁর রাজনৈতিক কলেজে গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সেলীম রেজাকে পিটিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হলে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। তবে ১৪ জুলাই অধ্যক্ষ সেলীম রেজাকে সাংবাদিকদের সামনে আনেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। সেখানে এমপি ওমর ফারুক অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। আর অধ্যক্ষ নিজেও দাবি করেন, এমপি মারেননি। এমপির কার্যালয়ে অধ্যক্ষদের নিজেদের মারামারিতে আহত হয়েছেন তিনি।

তবে এরই মধ্যে একটি ফোনকল রেকর্ড সামনে এসেছে যেখানে অধ্যক্ষ সেলীম রেজাকে এমপির মারধরের বর্ণনা দিতে শোনা যাচ্ছে। গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান আক্তারের সঙ্গে তাঁর ওই কথোপকথন হয়। আখতারুজ্জামান ওই কথোপকথনের সত্যতা নিশ্চিত করলেও অধ্যক্ষ দাবি করেছেন, তাঁর কণ্ঠ নকল করে অডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির প্রধান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ের তদন্তকাজ শেষ করেছি। এখন প্রতিবেদন লেখার কাজ চলছে। এটা শেষ হলেই তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হবে। তদন্তে কী পাওয়া গেছে তা এখনই জানাতে চাননি তিনি।