বিশ্বব্যাপী গ্যাস সংকটের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোই দায়ী। রাশিয়ার ওপর চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই বিশ্বে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তা শেষ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডিয়ান কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও উপস্থাপিকা র‌্যাচেল মার্সডন। রুশ সংবাদ সংস্থা আরটিতে প্রকাশিত উপ-সম্পাদকীয়তে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের জন্য পুতিনের ওপর দোষ চাপিয়ে বিশ্ববাসীকে বোকা বানাচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত করছেন পশ্চিমা নেতারা। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তাঁর দেশের নাগরিকদের রাশিয়ার গ্যাস ছাড়া চলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। আবার সেই তিনিই রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই স্ববিরোধী বক্তব্য জ্বালানি সংকটের কারণে জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণকে আড়াল করে দেয়। মাখোঁর মতো একই বক্তব্য দিয়েছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন। গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে উরসুলা বলেন, জ্বালানি নিয়ে রাশিয়া বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করছে। অথচ সেই উরসুলা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একেবারে নিশ্চুপ রয়েছেন।
একইভাবে পশ্চিমারা রাশিয়ার ব্যাংক, বৈদেশিক রিজার্ভসহ বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন-ব্যবস্থা সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইন্টার ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) থেকে বাদ দিয়েছে। এভাবে একঘরে হওয়ার পর রাশিয়া যখন গ্যাস রপ্তানির জন্য রুবলে মূল্য পরিশোধের শর্ত দিয়েছে, তখন এই শর্তের সমালোচনা করা হয়েছে।
এদিকে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরও ইউক্রেনের কৌশলগত বন্দর ওডেসায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে চরম বর্বরতা বলে আখ্যা দিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, মস্কোর সঙ্গে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। রাশিয়ার ওই হামলায় ওডেসা আর্ট মিউজিয়ামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ওডেসা বন্দরে যে নৌযানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, সেটি সামরিক নৌযান।
শস্য চুক্তি রক্ষা নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সন্দেহ পোষণ করে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কিয়েভ সফররত মার্কিন কংগ্রেসের একটি শীর্ষ প্রতিনিধি দল। গত শনিবার দলটি জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ প্রতিশ্রুতি দেয়। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম স্মিথ।
চলতি সপ্তাহে আফ্রিকার সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাইজেরিয়ার এলএনজির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা। রাশিয়া থেকে সরবরাহ বন্ধের শঙ্কায় নাইজেরিয়া থেকে বাড়তি গ্যাস আমদানির চেষ্টা নিয়ে ওই বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের জ্বালানি বিভাগের সহকারী মহাপরিচালক ম্যাথিউ বালডউইন। তিনি জানান, ইউরোপের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মোট চাহিদার ১৪ শতাংশ নাইজেরিয়া থেকে আমদানি করা হয়। তবে আমদানির পরিমাণ দ্বিগুণ করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। খবর বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও আলজাজিরার।