আবার ইয়েরেভানেও কারিগরি ত্রুটি আমাদের পিছু ছাড়েনি। পরীক্ষার সময় ক্রমাগত বিলম্ব আর যথেষ্ট বিশ্রামের অভাব যেন বাংলাদেশে আমাদের দল নির্বাচন আর আন্তর্জাতিকের প্রস্তুতির দিনকেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল। ফ্লাইটজনিত বিড়ম্বনার কারণে পরীক্ষা এসে গেলেও আমার তখনও মাথাব্যথা আর ঘুম কাটেনি। তাই ব্যবহারিক পরীক্ষার বিষয়গুলো পরিচিত হলেও আগে অনুশীলন না থাকায় কোনোটিই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারিনি। তত্ত্বীয় পরীক্ষায় বারবার দেরি হলেও পরীক্ষা দিয়ে মোটামুটি সন্তুষ্ট ছিলাম।

এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও সেখানে গিয়ে খারাপ লাগেনি। নানা দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা, বাইরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সুন্দর স্থানে ঘুরতে যাওয়া এবং গাইড হিসেবে ভাহাগের মতো একজনকে পাওয়া সেখানে থাকা প্রতিটি মুহূর্তকে যেন সার্থক করেছে।

আর্মেনিয়ায় যাওয়ার পর পরীক্ষাগুলো শেষ হলে আমরা মোবাইল ফেরত পাই। তবুও ব্যস্ত সময়সূচির কারণে বাড়িতেও কথা বলতে পারিনি। এমনকি স্যাররাও আমাদের উত্তরপত্র নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও রেজাল্টের আগে আমাদের দেখা হয়নি। তবে বাংলাদেশ দলের চারজনের অসাধারণ বোঝাপড়ার কারণে এই যাত্রায় নিজেকে একা লাগেনি।

ফল আমার তেমন চাওয়া-পাওয়া ছিল না, যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা কোনো মেডেল দিয়ে বিচার করা যাবে না। আমি মঞ্চে ওঠার আগেই আরও দু'জনের ডাক পড়ে। চারজনই মেডেল পেয়ে এত খুশি হয়েছি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এ কৃতিত্ব, অর্জন এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতার জন্য আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিডিবিও-সমকাল জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড সংশ্নিষ্ট সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।