মো. সেলিম রেজা। বয়স ৩০ পার হয়েছে মাত্র। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস এই যুবক একে একে চাকরি নেন সেনাবাহিনী, ওষুধ কোম্পানি ও বীমা কোম্পানিতে। কিছুতেই তাঁর ভালো লাগে না। কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন তাড়া করে তাঁকে। সব ছেড়ে ২০০০ সালে মন দেন কৃষিতে। নাটোর সদরের আহম্মেদপুর এলাকায় দুই বিঘা জমিতে শুরু করেন কৃষি খামার। সেই খামার এখন ১০০ বিঘার ফল সাম্রাজ্যে রূপ নিয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'দৃষ্টান্ত এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নার্সারি'র খ্যাতি এখন দেশজুড়ে।

বদরুল হায়দার ব্যাপারীর জন্ম ১৯৭৬ সালে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চৌঠাইমহল গ্রামে। ডিগ্রি পাস করা বদরুল ২০১২ সালে কেঁচো সার নিয়ে কাজ শুরু করেন। এখন তাঁর বেশিরভাগ সময় কাটে কেঁচো নিয়ে। কাজটাকে এতই ভালোবাসেন যে, ফেসবুকে বদরুল নিজের পরিচিতি দিয়েছেন 'কেঁচোচাষা' হিসেবে। 'জাগো কেঁচো সার' উৎপাদন খামারের স্বত্বাধিকারী বদরুল শুধু নিজের কাজ নিয়েই পড়ে থাকেন না, অন্যদের কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহারে উৎসাহিত করেন। বদরুলের নিজের তিনটি খামারে বর্তমানে কেঁচো সার উৎপাদনের পরিমাণ প্রতি মাসে প্রায় ৮৫ টন।

সেলিম রেজা ও বদরুল হায়দার ব্যাপারীর মতো এমন উদ্যোক্তা, কৃষিবিজ্ঞানী, উৎপাদনকারীসহ কৃষি উন্নয়নে যুক্ত ১৩ জনের মিলেছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রথমবারের মতো দেওয়া কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) সম্মাননা পেয়েছেন তাঁরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা তুলে দেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের কৃষিকে আমরা বাণিজ্যিক ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে উন্নীত করতে চাই। কৃষিতে শিক্ষিত, মেধাবী ও সৃজনশীল তরুণদের আকৃষ্ট করতে চাই। এ সম্মাননা এ ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা সচিবালয়ে প্রবেশের পাস, বিমান-রেলসহ সব পরিবহনে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার, বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার ও সরকারি হাসপাতালে কেবিনসহ সিআইপির মতো সব সুবিধা পাবেন।

সম্মাননা পাওয়া পাবনার ঈশ্বরদীর বক্তারপুর গ্রামের মা-মনি কৃষি খামারের উদ্যোক্তা নুরুন্নাহার বেগম বলেন, 'কৃষিকাজ করে এত বড় সম্মান পাওয়া যাবে, কল্পনাও করিনি। আমাকে কেউ ১০ লাখ টাকা দিক, আমি তা চাই না। কিন্তু এ সম্মাননা অনেক বড় পাওয়া।'

এআইপি সম্মাননা পাওয়া কুমিল্লার বিছমিল্লাহ মৎস্য বীজ উৎপাদন কেন্দ্র ও খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সামছুদ্দিন কালু বলেন, 'মাছের ব্যবসা শুরুর সময় আমার এক বন্ধু মানসম্মানের ভয়ে ব্যবসায় আসেনি। আজ আমার মতো একজন সাধারণ ব্যক্তিকে রাষ্ট্র বড় সম্মান দিল। এখন মাথা উঁচু করে চলতে পারব।'