নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে জনপ্রতিনিধিদের ভোটের জন্য ভোটারদের কাছে যেতে হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের ভোট নয় বরং মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করলে ভোট নিয়ে ভাবতে হবে না। জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদার জায়গায় যেতে হবে। না পারলে জোর করে টাইটেল লাগিয়ে শুধু পদবীর মর্যাদাই পাবেন। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মতো আনন্দের কিছু নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্থানীয় সরকার বিভাগের বাস্তবায়নাধীন 'কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার (ইএএলজি) প্রকল্প' এবং ইউএনডিপি আয়োজিত 'স্থানীয় সুশাসন বিষয়ে অংশীজনদের সম্মেলন: অগ্রগতি, শিখন ও করণীয়' শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্‌ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মিস নাথালী শুয়ার্ড এবং ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা থাকলে ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে জনপ্রতিনিধির সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়ে যাবে। মানুষকে দুঃশাসন ও অত্যাচার-অবিচার থেকে মুক্তি দিতে না পারলে আপনাকে বার বার মানুষের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, জনগণের কাছ থেকে কর আদায়ের পাশাপাশি পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের কাছে প্রকাশ এবং উন্মুক্ত বাজেট উপস্থাপন করতে হবে। এতে করে জনসাধারণ অবশ্যই কর প্রদানে উৎসাহী হবেন। জনগণকে তাদের প্রত্যাশিত সেবা প্রদান করলে কর না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের আয় বৃদ্ধি করে উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রাখতে হবে।